সম্পাদকীয়

একটা উদ্ভিদ, গাছ হয়ে ওঠা আর ছাতার গল্প

যখনি ভাবি খুব গুছিয়ে, সময়ের রুদ্ধশ্বাস গতির মধ্যেই কিছুটা ছোটবেলা ধরে নিয়ে মাটির নিচে রেখে দেব জলজ স্বপ্নের বিকেলগুলোর মতো, ঠিক তখনই কোনো না কোনো অছিলায় ম্যাজিক রুমালগুলো ছাতার গল্প আর গাছপালার ঘ্রাণ ছেড়ে পালতে চায়। কোথাও পৌষ দেখি, হিমেল হওয়ার মৃদুমন্দ কাঁপুনি আর একটা নস্ট্যালজিয়ার আলোর মালায় মুড়ে বাহারি রংমশালগুলোকে কাঠবাদামের খোলার মধ্যে পুরে রাখি, মায়ের কাছে গিয়ে বলি, “দেখো না একটু, লেখাটা কেমন হলো, বলো না, কোন লাইনটা বাদ দেব…” মা একটু হেসে বলে “দেখ এই লেখার মধ্যেই কোথাও স্বপ্নের চারাগুলো রেখে দিয়েছিস, ঠিকঠাক জল দিচ্ছিস কিনা দেখি, তবেই তো বুঝবো উদ্ভিদ কতটা সবুজ হলো।” কে জানে, মায়েরা তো এরকমই হয়, আর আমার বিস্রস্ত, অগোছালো এখন-তখনের দ্বৈরথ চলতেই থাকে। ছেলেবেলাটা ঠিক কতটা সূক্ষভাবে বদলে যায়,রেসকোর্সের ঘাসের ডগায় পদ্মপাতা-শিশিরের মতো টলটল করে, বাদামি-চায়ের কাপের পরতে পরতে ছড়িয়ে থাকে একটি ছোটবেলার সাথে বড়বেলার নিকট আত্বিয়তার আর সময়ানুবর্তিতার বিশেষ আলোড়নকারী পরিচিতি মেপে দেখি সূর্যমুখীর কোমল পাপড়ি দিয়ে।
ভাবনা, স্বপ্নে দেখা দৈত্য আর রাজকন্যা, উদ্ভিদ আর ছাতাগুলো খুবই সত্যি ছিলো, এক আকাশ আদর ঝেঁপে আসার মতো, জ্বরের ঘোরে অথবা সুস্থতার বেঘোরে ব্রোঞ্জ-রং জলপিপির ডানায় এঁকে দেওয়া কষ্টের আল্পনা, কিশোরীর পত্রসম্বন্ধীয় অস্তরাগের নিক্কণ আর শব্দকোষ হাতড়ে বের করে আনা ষোলো-আনা ছেলেবেলাটাই ছিলো তখন, এখনো হয়তো আছে, কিছুটা এভাবেই:
…দুটো পাতার মাঝে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে, সোনালী কলমের শিরায় শিরায়
পোয়াতি মাঠের একদম শীর্ষপ্রান্তে,
যেখানে বুক-জলে গুনে চলি অধ্যবসায়ের উদ্ভ্রান্ততা।

শ্রীতন্বী চক্রবর্তী

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।