সম্পাদকীয়

মন খারাপ হলে কুয়াশা হয়…

“মেঘ পিওনের ব্যাগের ভেতর,
মন খারাপের দিস্তা
মন খারাপ হলে কুয়াশা হয়,
ব্যাকুল হলে তিস্তা।
মন খারাপের খবর আসে,
বনপাহাড়ের দেশে
চৌকোণও সব বাক্সে যেথায়,
যেমন থাক সে
মন খারাপের খবর পড়ে,
দারুণ ভালোবেসে।”
‘তিতলি’ চলচ্চিত্রের এই অতি পরিচিত গানটি কতটা সহজভাবে মেঘলা মনকেমনের সময়গুলো তুলে ধরে। মেঘপিওন পাড়ি দেয় এক দেশ থেকে অন্য দেশ আর তার সাথে সাথেই মন খারাপ হলে কুয়াশা বাষ্পীভূত হয়ে জমতে থাকে কাঁচের আড়ালে। কিছু মন জমে থাকে অন্ধকারে, স্কুল, কলেজ সব বন্ধ থেকে তৈরী হয় বন্ধুদের সাথে না-দেখা হওয়ার মুহূর্তগুলো। কিছু মনখারাপ এঁটে থাকে বালিশে, টেবিলে, জানলার ধারগুলোতে। বইপত্রে, আঁকার খাতায় শুরু হয় অবসরযাপন আর তার সাথে মনখারাপ কম বেশি হতে থাকে।
মনখারাপের ধারালো বশ্যতা স্বীকার করে ছোট্ট ছোট্ট মনগুলো এককাট্টা হয়ে স্বপ্ন দেখে কবে covid দানব বধ হবে আর কবে আবার সবকিছু ঠিক হবে আগের মতো। মনখারাপ ফিরে ফিরে আসে গাছের চেনা পাতায়, কাঠবিড়ালিগুলো খুঁটে খায় পাকা ফল আর সময়। অলস দুপুরে ঘুমের মধ্যে পরীর গল্পের মতোই সেঁধিয়ে যায় মনখারাপ নামক বিষম বস্তু। কেউ হারিয়েছে সময়, কেউ বাবা-মাকে, কেউ বা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে দাদু ঠাকুমার থেকে। ছোট ছোট বাচ্ছাগুলোর মন ভারাক্রান্ত, কমিক্স আর ভিডিও গেমেও আজকাল সেই মজা আর নেই। কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা- ঠিকই, কিন্তু মনখারাপের দিস্তা দিস্তা কাগজ তো নানারকম মানা লিখেই দিচ্ছে। শারদীয়াগুলো এইবারে এসে গেলেই ভালো, তাতে মনখারাপের ভ্রুকুঞ্চন যদি কিছুটা কমে !
আমাদের সাহিত্য হৈচৈ- মজা, হৈচৈ করার জায়গা। কম বেশি সকল শিশুদের, কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ নিয়ে আমরা লেখা, ছবি, ঘুরতে যাওয়া, ইতিহাসের গল্প এই সব থেকেই খুঁজে পাই জীবনের কিছু আত্মিক অনুভূতি। ছোটরা, এবং বড়রা যারা ছোটদের জন্যে লেখো সবাই নিজেদের লেখা, আঁকা আমাদের পাঠিয়ে দাও। এই মনখারাপের সময়টুকুও অচিরেই কাটিয়ে উঠবো সবাই মিলেই, হাতে হাত ধরে।
মেইল করো: techtouchtalk@gmail.com / sreesup@gmail.com

শ্রীতন্বী চক্রবর্তী

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!