গল্প গাথায় সৌমিত্র চক্রবর্তী (অণুগল্প)

সমান্তরাল

তনুময়কে সিঁড়ি বেয়ে উঠে আসতে দেখে অবাক হল শিঞ্জিনী। ও-ও নিমন্ত্রিত নাকি ? শিঞ্জিনী একটু গুছিয়ে নিল নিজেকে। কতো বছর পরে মুখোমুখি আবার ? ছাব্বিশ – সাতাশ তো হবেই। উফ্, একটা সময় তাকে কি যে চাইত ছেলেটা ! তাকে নয়, তার শরীরটাকে। দাদার বন্ধু ছিল। সেই সুযোগে অবাধ যাতায়াত আর ছোঁকছোঁকানি। শিঞ্জিনির খারাপ লাগতনা, কিন্তু মন ছাড়া শরীর ! চায়নি সে। তাই হালকা প্রশ্রয় একটা ঝুলিয়ে রেখেছিল খালি।
তনুময় এগিয়ে আসছে।
এবার নজর করবে তাকে।
পাশে বসতে চাইবে নিশ্চয়।
বসুক, ভালোই লাগবে এখন, এ’বয়সে।
শিঞ্জিনি তনুময়ের উপর পূর্ণদৃষ্টি রাখল।
তাকে পেরিয়ে যাচ্ছে ছ’ফুটের শরীরটা। খেয়ালই করছেনা। নাকি অবজ্ঞা? মিশে যাচ্ছে একটু দূরের জটলায়। নাঃ, একটুও বদলায়নি তো তনুময়। জটলার তরুণীরা হেসে ফেটে পড়ছে ওর কোনও কথায়। তনুময় হাত রাখছে কাঁধ, পিঠগুলোয়।
শিঞ্জিনীর হঠাৎ চোখ পড়ল উল্টোদিকের দেওয়াল আয়নায়। ফোলা চোখ, পাউডারভেদী বলিরেখা, চওড়া কপাল – শিঞ্জিনী নিজের থেকে চোখ ফিরিয়ে নিল। ছুঁইছুঁই পঞ্চাশে প্রায় রোজ যা শিখছে, আজ তনুময় তারই হেডমাস্টারী করে গেল।
বয়স নারীরই হয়, পুরুষের নয়।
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!