গল্পেরা জোনাকি তে সুজিত চট্টোপাধ্যায়

শুভ জন্মদিন
মল্লিকা আজ মা হলো।
বুকের কাছে ফুটফুটে সদ্যোজাত সন্তান।
মল্লিকা আজ শুধু নারী নয়, মা।
প্রসববেদনা , নাড়ি কাটার যন্ত্রণা, সব ভুলেছে সে, মা হবার আনন্দে।
আজ শুধু সন্তানের জন্মদিন নয়। এক নারীর মা হয়ে ওঠারও জন্মদিন।
এক যুবকের বাবা হয়ে ওঠারও জন্মদিন।
তিনটি প্রাণীর মিলিত জন্মদিন আজ।
খুশি , সবাই খুশি। বুক ভরা আনন্দে , চোখে জল, টলটল। অভিনন্দন অভিনন্দন আর অভিনন্দন।
ভালো থেকো তোমরা, সুখী হোক আগামী নবজীবন।
ত্রিশ বছর পর
অভিনন্দনের নতুন ফ্ল্যাটে আজ মহা হুল্লোড়।
খানাপিনা, বন্ধু বান্ধব, আত্মীয়, প্রতিবেশীর উল্লসিত জমায়েত। ফুলে, উপহারে, অভিনন্দনে আজ ভেসে যাচ্ছে অভিনন্দন আর তার নতুন ফ্ল্যাটের মতোই চকচকে ঝকঝকে স্ত্রী।
আজ অভিনন্দনের জন্মদিন।
সেই জমকালো মহাসমারোহে মাত্র দুজন অনাহুত।
অভিনন্দনের মা আর বাবা।
যাদের পিতৃত্ব আর মাতৃত্বেরও আজ জন্মদিন।
মল্লিকা অতি যত্নে নিজের হাতে একবাটি পায়েস তৈরি করলো।
যা ত্রিশ বছর ধরে অভিনন্দনের জন্য স্নেহ ভালোবাসা শুভকামনা মাখিয়ে মাতৃত্বের আঁচল ঢেকে তৈরি করেছে , প্রত্যেক জন্মদিনে। সেই পায়েস।
গতকাল রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে, আম বাগানে ঝরে পরা কাদামাখা অভাগা আমগুলির পাশে, স্নেহভরা পায়েসের বাটি খানি রেখে , আঁচলে চোখ মুছে নিয়ে , আকাশের দিকে তাকিয়ে , মনে মনে বললো ,,,
হে বিশ্বপ্রকৃতি জননী , তোমার সৃষ্ট সকল সন্তানের প্রতি আমার এই ভালবাসার দান , তুমি হৃষ্টচিত্তে গ্রহন করো।
বিলিয়ে দাও সকল সন্তানের মাঝে। পালিত হোক শুদ্ধ পবিত্র শুভ জন্মদিন।
সেই ক্ষণে , সেইখানে সকলের অজ্ঞাতে এই নিদারুন বেদনার সাক্ষী হয়ে রইলো ঈশ্বর ছাড়াও আরও একজন ,
যার পিতৃত্বের জন্মদিনও আজ।