ক্যাফে কাব্যে সুজিত চট্টোপাধ্যায়

আমায় ভালোবেসে
যদি ভালোবাসো আমায়
কিছু শব্দ ধার দিয়ো, কবিতা রাঁধবো।
ফের পয়লায় শোধ করে দেবো কড়ায়গণ্ডায়।
যদিও চার্বাক দর্শন চুপিচুপি বলেছে আমায়….
” ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেত “,
তবুও ঘি চাই না… কিছু শব্দ দিয়ো,
মশলাপাতি যা কিছু পড়ে আছে
জীবন পয়লায় কেনা,
সেসব দিয়ে ফুটিয়ে নেবো
জীবনের প্রাত্যহিক বেঁচে থাকার রসদ।
যদি ভালোবাসো আমায়
দিতেও পারো একটা ঘননীল আকাশ,
দুধসরের মতো দু একটা ভেসে যাওয়া সাদা মেঘ,
শিলাবতী বা কুন্তীর মতো এক শান্ত নদী,
পানের ওপর কুচো সুপারির মতো
তাতে ভাসুক নাহয় দুটো একটা জেলে ডিঙি,
খুব বেশী বড়ো নয়,
শুশুনিয়ার মতো একটা পাহাড় হবে তোমার কাছে?
তাহলে প্রাত্যহিক জীবনটা বেশ জমে যেতো
রন্ধন শেষে কড়ায় ছড়িয়ে দেওয়া ঘিয়ের মতো।
কি ভাবছো আমায় লোভী বা ভিক্ষুক?
জীবন ঘেঁটে জেনেছি কিসে হয় সুখ।
কোনো পণ্ডিত বলেছিলো….
” ভিখারীর পছন্দ থাকতে নেই কোনো “।
আমি ” ভিখারী নই ” তাই শুধু জেনো
নাই যদি থাকে ঘননীল আকাশ, দুধসাদা মেঘ,
তাতেও হারাবে না কবিতার বেগ
শান্ত এক নদী কুন্তী বা শিলাবতী,
না পেলে তাতেও নেই ক্ষতি।
শুধু তুমি থেকো পাশে
শব্দের যোগানে জীবনের শেষে,
কিছুই না থাকে যদি
একটা ঝরে যাওয়া গোলাপ দিয়ো
আমায় ভালোবেসে।