T3 || কালির আঁচড় পাতা ভরে, কালী মেয়ে এলো ঘরে || লিখেছেন শান্তালতা বিশই সাহা

উত্তরণ

আঁধার, কে তুমি?
তোমার তো কোন অস্তিত্বই নেই
তুমি পরিচয়হীন।
দেখ তো আলোর কেমন অস্তিত্ব আছে তরঙ্গ আছে গতিবেগ আছে,
আলো তুমি সদা জাগ্রত
তুমি শাশ্বত,
তুমি আছ তুমি থাকবে।
বলতে পার আঁধার, তুমি এলে কোত্থেকে?
কেনই বা জগৎ সংসারের বুকে এতো ধ্বংসলীলা ঘটাচ্ছ?
তুমি কি সদাই আলোর পিছনে থাক?
না কি নিজেকে জাহির কর, অপরের করুণাকে অবলম্বন করে?

পারবে না পারবে না,
বৃথা তোমার আস্ফালন।
একমাত্র আলোই পারে
অনায়াসে আঁধারকে দূরে সরিয়ে নিজেকে প্রতিভাত করতে।
চৈতন‍্য যে আলোর স্বরূপ,
পরম পুরুষ পরমহংসদেবের আশীষবাণী।
চেতনাপূর্ণ আলোক উদ্ভাসিত এক জীবনসত্ত্বা;
যার প্রকাশ-
সদ্ ভাবনাময় পরিচ্ছন্ন সমাজ,
যার পরিণতি-
ইর্ষাহীন সাহচর্যপূর্ণ এক জগৎ,
যার ফল-
সম্প্রীতিপূর্ণ আনন্দময় জগৎ সংসার।

আঁধারের পরিধি যত বাড়ছে
আলো ততই সঙ্কুচিত হচ্ছে।
বড় কষ্ট হয়; যখন দেখি
কুক্ষিগত হচ্ছে মানবের মানবতা,
লিপ্সাপূর্ণ অমানবিক পৈশাচিকতার দাপটে
মানুষ অকারণে মেতে উঠছে ধ্বংসলীলায়।

এদিকে মুক্তকেশী চর্তুভূজা
তাঁর লোলজিহ্বা দিয়ে শুষে নিচ্ছেন সকল আঁধার,
মা যে আমার আলোর প্রতিভূ।
দেখ, সমস্ত আঁধার বিদুরিত করে মায়ের জ‍্যোর্তিময় শিখায় ভরে উঠছে দিগ্বিদিক
“মহামেঘ প্রভাং ঘোরাং
মুক্তকেশীং চতুর্ভূজাং
কালিকাং দক্ষিণা
মুণ্ডমালা বিভূষিতাং”
তোমার মহাপ্রলয়ের মধ‍্যেও এতো আলো!
এমন বিশ্ববিমোহিনী মূর্তি!
তুমিই সেই আদি জননী
মাগো, তুমিই মহাশক্তি
জন্ম-জন্মান্তরের মাতৃহৃদয়োৎসারিত স্নেহময়ী জননী।

এসো, মাতৃপুজার সময় এসেছে,
আমাদের হৃদোৎসারিত পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করি।
জ্বলে উঠুক আলো,
দীপাবলির আলোকমালায় সুসজ্জিত হোক
গরীবের পর্ণকুটির হতে ধনীর প্রাসাদ,
আমাদের মনের কোঠাঘর হতে
নিশ্চিহ্ন হোক সকল আঁধার,
সকল অশুভের মাঝে হোক শুভ-র উত্তরণ।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।