মার্গে অনন্য সম্মান সুতপা ব‍্যানার্জী(রায়) (সেরা)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার

সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ৮৩
বিষয় – সংযোগ

রিস্ক

অর্জুন আর অবন্তী কলেজ জীবন থেকে সহপাঠী, বন্ধু। গ্র‍্যাজুয়েশানের পর দুজনেই মাস কমুনিকেশন নিয়ে পড়াশোনা করেছে। পাস করার পর অবন্তী যখন কোন বিজ্ঞাপন সংস্থা বা সংবাদপত্র সংস্থায় যোগ দেওয়ার কথা ভাবছে তখন একদিন অর্জুন বলল-“কী চাকরির পেছনে ছুটছিস, চল আমরা স্বাধীনভাবে কিছু করি। আমরা খবর জোগাড় করে বড় হাউসে সে খবর বিক্রি করব।” অবন্তী কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল-” ফ্রিল‍্যান্সিংয়ের কথা বলছিস তো। তুই আমি পার্টনার? জানিস তো বাঙালির পার্টনারশিপ টেকে না, কিছু না কিছু খিঁচাই হয়েই যায়।” অর্জুন জোর দিয়ে বলল-“না রে না, আমরা এতদিনের বন্ধু, সেরকম কিছু হবে না।” সেই থেকে অর্জুন আর অবন্তী পেশাগতভাবে জোট বেঁধে আছে।
অর্জুনের ছবি তোলার হাত ভাল তাই ও চিত্রসাংবাদিক আর অবন্তী বিশেষ সংবাদ দাতা। ঝগড়া-ঝামেলা-মারামারি-বন‍্যা-মহামারী সব ক্ষেত্রেই ভিড় ঠেলে অবন্তী সংবাদ সংগ্রহ করে, লোকের বক্তব‍্য রেকর্ড করে আর অর্জুন পটাপট ছবি তোলে, ভিডিও করে। বেশ চলছে দুজনের কাজ, ওদের প‍্যাশনের সঙ্গে কাজ মিলে গেছে। এর মধ্যে অধিক বৃষ্টিপাতজনিত কারণে জলাধারের জল ছাড়ায় দামোদরের নিম্ন অববাহিকা অঞ্চল ভেসে যাচ্ছে। মানুষ জন উঁচু বাড়ি দেখে আশ্রয় নিচ্ছে। এই দুর্ভোগের খবর ক‍্যামেরা বন্দী করতেই অর্জুন আর অবন্তী পৌঁছে গেছে সেখানে। বানভাসি মানুষদের সঙ্গে হাঁটু জলে নেমে কথা বলছে অবন্তী, আর অর্জুন পাড় থেকে ভিডিও করছে। হঠাৎ একটু এগিয়ে গিয়ে অবন্তী চেঁচাতে শুরু করল-“চোরাবালি….চোরাবালি.
আমি বালির ভেতরে ঢুকে যাচ্ছি।” অর্জুন দেখল মহাবিপদ,ও যদি ওখানে যায় ও-ও তো ঢুকে যাবে তাই ওখানে দাঁড়িয়ে-ই চিৎকার শুরু করল-“হেল্প..হেল্প..হেল্প।” অর্জুনের চিৎকারের মাঝেই
অবন্তী পাড়ে উঠে এসে সোজা হাঁটা শুরু করল। পেছনে পেছনে ছুটতে ছুটতে অর্জুন আসছে-“এই অবন্তী শোন্ না..আরে দাঁড়া না।” অবন্তী অর্জুনের দিকে সোজা মুখোমুখি তাকিয়ে বলল-“তোর জন্য আমি সমস্ত রকম বিপদে ঝাঁপাই, আজ একটু পরীক্ষা করলাম আমার বিজনেস পার্টনার কেমন, তার ওপর কতটা ভরসা করা যায়। তুই ডাঁহা ফেল করেছিস। যদি সত‍্যিই আমার বিপদ হোত তাহলে ঐ দূরের লোকগুলো না এলে, সাহায্য না করলে আমায় মরতে হোত। তুই তো তোর জায়গা থেকে এক চুলও নড়িস নি।” অর্জুন কাতরভাবে-“শোন না, শোন না,” অবন্তী-
“কিছু শোনার নেই তুই যেমন তোর লাইফ রিস্কটা ভেবেছিলি, আমিও আমার কেরিয়ারের রিস্কটা ভাবব। কাল থেকে আমি কোন বড় নিউজ এজেন্সিতে চেষ্টা করব। মাইনে আর সবকিছুই তো ওখানে সুরক্ষিত থাকবে, কী বল?” অর্জুনের হাঁ করা মুখের সামনে দিয়ে অবন্তী গটগট করে হেঁটে বেরিয়ে গেল।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।