ক্যাফে কাব্যে সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়

রোদে-জলে আঁকা মন্তাজ
ভাগলপুর টি-স্টলের পাশেই বেনারসি পানের দোকান
একটু দূরেই চপ আর বেগুনি ভাজে নদীয়া-যুবক
খুলনা ও যশোরের মহিলাও রয়েছে ফুটপাথে –
কাঁটাতারে গোলাপ ঝরিয়ে, পালিয়ে এসেছে এইদিকে
রাস্তায় হাঁড়ি চড়ে , উনুনের ধোঁয়ায়
রোজ পোড়ে প্রান্তিক ওপেন কিচেন
পুরোনো অফিসবাড়ি প্রতি রাতে ভূতবাড়ি হয়
লিফট থেকে নেমে এসে, দাবার চালের কালো ঘুঁটি
রাস্তায় গড়িয়ে গেছে সেই কবে চেকমেট হয়ে
গ্লো-সাইনে ভেসে ওঠে সিটিব্যাংক , বণিকসভার নাম
কারা যেন বাড়িগুলো সারাদিন সচল রাখে
আর তারপর একদিন নিজেরাই অচল হয়ে যায় …
জীবনের এক কপি জেরক্স মেশিনে রেখে
মিনিস্কার্ট সেক্রেটারি , আরও সব বড় অফিসার
একদিন ডালহৌসির ছাদে জড় হয়
হকারের পেট কেটে হাওয়া খাওয়া ট্র্যাফিক পুলিশ
একদিন হাওয়াতেই টুপি খুলে একা মিশে যায়
পার্কিং লটের পাশে হেঁটে যাওয়া জানেমন অফিস-কাপল
কে যে কবে ঠকে গিয়ে ইস্তফা দিয়ে দিল শেষে
কবে যেন জুন মাসে উবে গেল বুড়ো দারোয়ান
মিটিং, মিছিল আর প্রতিবাদে জ্বালিয়ে দেওয়া বাস –
এইসব বহমান রোদে-জলে আঁকা মন্তাজ
দূর থেকে দেখি আমি, আর দ্যাখে অনুরিনা রায়
যাদের ভূগোল দেখে ইতিহাস মনে পড়ে যায়
তাদের চিনিনা আমি, এ নতুন অফিসপাড়ায়
আকাশে চিলের চোখে আমাদের ছায়া দেখা যায় …