গল্পতে শাশ্বত বোস

তবু লিখি

 

তবু লিখি, অনৃজু, নক্ত সমাজের ক্ষয়িত শিরদাঁড়ায় ভর করে|

বাসন্তী পিতাম্বর গায়ে মেখে, প্রেমের দুর্বল অশ্রুপাতে, প্রবোধী প্রেমিকের মতো|

কঞ্জমসৃত মধু গন্ধ ছড়িয়ে, আমার ঠোঁটে সে এঁকেছিল, বনেদি সংলাপের আভেরি চুম্বন|

আমার লেখায় খুঁজি তাকে, পরাকৃত উষ্ণতায়, বসন্তের অশ্মানী বহ্নিপলাশের মতো|

কার ঘর আলো করে এসেছিল সে, তা জানা নেই|

কার ঘরেই বা জ্বলেছিল, অন্তিম প্রহরের অক্রূর প্রদীপখানি|

শুধু তার শুকতারা ভরা মুখে, দশমিক তিলের ভগ্নাংশে ডুব দিয়েছিলুম,

চৈত্রের শেষ অবীরা আণবিক ঝড়ের মতো|

মনে প্রাণে বুঝেছিলুম, আমি আসলে, সাহারার উদ্বাস্তু যাযাবরের মতো, কল্পনাপ্রবণ|

 

তবু লিখি, কারণ এই লিখতে পারাটাই আমার, একমাত্র অবলম্বন|

জানি, কোন অমূলদ সংখ্যাই পারে না, উন্নিদ্র রাতে, ফালির মতো চাঁদের বুক থেকে খসে পড়া আঁচলটা, পুরো টেনে সরাতে|

গতিহীন তমসা, আমায় জাপটে ধরে, ডুবতে চাওয়া মরালির মতো|

তবু চতুর্বর্গ এ জীবনে প্রেম আসে, নতুন করে|

হয়তো এই অভিতপ্ত বসন্তেই তার বাসর সাজায়,

চৈতী চাঁদের বিরংসা সাঙ্গ হয়, জীর্ণ হন্বস্থির মাঝে দ্রাক্ষায়িত রুধির সংগমে|

কপর্দ বিনে কিনতে চাওয়া জগৎটা, হঠাৎ এসে ধরা দেয় মুঠোর ভেতর|

সীমন্তপথে যোনিরক্ত মেখে, সে সরে যায় অশরীরি অপলাপে কিংবা অপহাসে|

প্রেম সে তো অদেয় ছিলই, এই বসন্তে হয়তো হিমশৈলও অধরা হল||

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।