সুমন সকাল আটটার সময় বাড়ি থেকে অফিসে যাওয়ার জন্য রওনা দিলো। সে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে মানব সম্পদ বিভাগে (Human Resource Department) সহায়ক পদে পদস্থ। সারে আটটায় অফিসে পৌছাতে হবে। সুমন বাইক ড্রাইভ করেই অফিস যায়। দশ কিলোমিটার রাস্তা। সতর্কতা নিয়ে বাইক চালায়, তাই, আধঘন্টা লেগেই যায় অফিস পৌছাতে। পেট্রোলপাম্পে পেট্রোল ভরিয়ে বাইক স্টার্ট করতেই সুমনের দিকে এক বয়স্ক বৃদ্ধা এগিয়ে এলো। কোঁচকানো গায়ের চামড়া, চোখের তলদেশ দুটিতে ঠিক বালি ভরা বস্তার ন্যায় ঝুলন্ত মাংসপিন্ড, লালিত্যহীন ভাঁজপড়া কালো মুখমন্ডল, ময়লার আচ্ছাদনে ঢাকা সাদা কাপড় শৃঙ্খলাহীনতার অভাব নিয়ে গায়ে জড়ানো, ছেঁড়া হাওয়াই চপ্পলটা না পড়লেও পোশাকের কোনো সামঞ্জস্যের ঘাটতি হতো না; তবে বৈশাখীর তপ্ত রাস্তায় পায়ের তলা আগুন দগ্ধ থেকে কিছুট রেহাই পাওয়া যায় বটে। দুর্বল চোখদুটো দারিদ্র্যতার দৃষ্টিতে সুমনকে দেখে আশাবাদী হয়ে হাত দুটো এগিয়ে দিল। সুমনের কাছে একটা ৫০০ টাকার এবং চারটে ১০ টাকার নোট ছিল। ৫০০ টাকার নোটটা তখনই খরচা করতে ইচ্ছে হচ্ছিলো না সুমনের, তাই ঐ চারটে ১০ টাকার (মোট ৪০ টাকা) পেট্রোল ভরালো এবং বৃদ্ধার চাহিদাকে উপেক্ষা করে সে অফিসের দিকে রওনা দিলো কারণ মনের মধ্যে একটা তাড়া ছিল পাছে অফিস পৌছাতে দেরি না হয়ে যায়। যেতে যেতে ঐ বৃদ্ধাকেই ভাবছিলো সুমন। খুবই অনুতপ্ত হচ্ছিলো, “কেন আমি সাহায্য করলাম না? কেন উনার চাহিদাকে উপেক্ষা করলাম? এটা তো অন্যায়েরই একটা শাখা। তাহলে, কি আমি পাপ করলাম? টাকা ছিল তবুও দিলাম না। এটাতো মানবিক মুল্যকে অসম্মানিত করা হয়।” এই সমস্ত ভাবনায় সুমন জর্জরিত। তাই, আজ সুমনের মনটা কেমন কেমন করছে আর মনের এই ভাবনাটাকে বহিষ্কার করার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলো – “হে ঈশ্বর! আর একটি বার সুযোগ ক’রে দাও যেন ঐ অসহায় বৃদ্ধার দেখা পাই এবং পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে পারি”।