ক্যাফে ভ্রমণে শীতল বিশ্বাস

গুপ্তেশ্বর গুপ্তকেদার
রাম লক্ষণ হারিয়ে যাওয়া সীতার খোঁজে বেরিয়েছেন।রাবণ তখন আকাশ পথে ততক্ষণে লঙ্কায়।জটায়ূও পারেননি রাবণকে আটকাতে।নিরাশ রাম তখন জানতে পারলেন শিব সহায় না হলে উপায় নেই।
দুই ভাই তখন জঙ্গল পাহাড় ছানবিন করছেন।পথে পড়ল রামগিরি পাহাড়।গভীর জঙ্গল।পশু পাখি সরীসৃপে ভরা।শালগাছের অরণ্য।হদিশ মেলে না শিবের।তখন মাতা পার্বতীর আরাধনা করে লুকিয়ে থাকা শিবের গুহার হদিশ পেলেন।
একটু নীচুতে কোলাব নদীতে স্নান করে শিবপূজো করে সব জানতে পারলেন।রওনা দিলেন রাবণ নিধনে।
কোরাপুট থেকে আশি কিমি দূরে এই শিবনিবাস।গুপ্তেশ্বর।অন্ধ্রপ্
কোলাব নদীকে বলা হয় গুপ্তগঙ্গা আর শৈবক্ষেত্রের নাম গুপ্তকেদার বা গুপ্তেশ্বর।
জঙ্গলাকীর্ণ রাস্তা বেয়ে আমরা শেষ সকালে পৌঁছালাম গুপ্তেশ্বর।পথে পার্বতীমাকে প্রণাম সারলাম।অনতিদূরেই ভোলা মহেশ্বরের নিবাস।
পিচরাস্তা ভালো।তবে জঙ্গলপথ নিরিবিলি।ছমছমে পরিবেশ।
দুশো সোপান টপকে বাবার নিবাস।স্বর্ণ চাঁপা গাছের পাশে গুহামুখ।দু মিটার উঁচু তিন মিটার চওড়া প্রবেশদ্বার।মাথা নামিয়ে ঢুকতে হয়।
কয়েকটি গুহা আছে পাশাপাশি।প্রথম গুহার প্রবেশ পথ খুব সংকীর্ণ।ভেতরটা বড়ো।পাথরের কামধেনুর নীচে শিবলিঙ্গ আছে এইগুহায়।শোনা যায় ,কামধেনুর দুধ ঝরে শিবের মাথায়।
একটু এগিয়ে গুপ্তেশ্বর।চৃণা পাথরের।বৃহদাকায়।গুহার ভেতরে এইরকম লিঙ্গ এবং তা চূণা পাথরের,বিস্ময়কর!
পূজো প্রদক্ষিণ করে বাহিরপথ।
গুহার ভেতর স্বয়ম্ভু শিব।আশ্চর্য লাগে এই গভীর দূর্গম জনবিরল স্থানে গুহার ভেতরে এই শিবলিঙ্গ দেখে।মনুষ্য নির্মিত নয়।মনুষ্য আবিষ্কৃত।
এই কোলাব নদী আর পাহাড় ঘিরে আছে গোবিন্দ পালি অরণ্য কাঙ্গের ঘাঁটি আর কাঙ্গের ভ্যালি জাতীয় উদ্যান।গভীর অরণ্যাঞ্চল।আজো মনুষ্য বিবর্জিত।আর অতীতে?
এই গুহার ভেতরে রামকুন্ড ,সীতাকুন্ড অনেক ঝর্ণা ও দেবদেবী আছেন।মহারাজ বীরবিক্রমের আমলে গুহায় প্রবেশের জন্য সোপান,তোরণ তৈরী হয়।
সবুজে-শ্যামলে মোড়া এইস্থানের বাসিন্দা হলেন বোন্দা উপজাতি।
ছোটকর্মের জন্য যাত্রাপথে একবার থেমেছিলাম।তখন ভয়ঙ্কর নিস্তব্ধতায় শুনতে পেয়েছিলাম রাবণের চিতার শব্দ।