T3 || সমবেত চিৎকার || বিশেষ সংখ্যায় সুদীপ ভট্টাচার্য

এমন শহর কখনো দেখিনি আগে।
অটো ড্রাইভার বললেন আজ গাড়ি চালাবেন যতক্ষণ মানুষ পথে থাকে। আজ মেয়েদের থেকে ভাড়া নেবেন না।
বাড়ির সহায়িকা দিদি জানাচ্ছেন পথে নামবেন তিনিও।
একজন রিক্সা চালককে জিজ্ঞাসা করলাম, আজ রাতে কী করবেন? ভেবেছিলাম হয়ত তিনি জানেন না, কিন্তু নিমেষের মধ্যে উত্তর দিলেন নিজের রিক্সায় বৌ আর মেয়েকে চাপিয়ে যাবো মিছিলে। মেয়েটার জন্য বড় ভয় করে দাদা।
বাজারে সবজি বিক্রি করতে আসেন বসিরহাটের আব্দুল। আব্দুল বললো “আজ বেশি করে সবজি নিয়ে যাও দাদা, কাল হয়ত আসবো না। আজ রাত জাগবো রাস্তায় বৌয়ের সঙ্গে। গ্রামের দিক তো, মেয়েদের সঙ্গে আমরা না থাকলে অন্ধকার আরো বেশি অন্ধকার হয়ে যায়।”
ব্যারাকপুরের যে গৃহবধূ জীবনে কোনদিন মুখ তুলে কথা বলেনি, আজ প্রতিবাদে পথে নামবে সেও।
ডায়মন্ড হারবারের লক্ষ্মী, প্রতিরাতে রাত জাগে সে শহরের রাস্তায়, ভোর হলেই ফিরে যায় বাড়ি। শুনলাম লক্ষ্মীরা আজ আসবেন না কলকাতা, বাড়ির কাছেই আজ ওরাও প্রতিবাদে সামিল হবে।
কলকাতা শহর থেকে ক্যালিফোর্নিয়া, বারাসাত থেকে বাঁকুড়া, নিউটাউন থেকে নিউ জার্সি, কোথাও রাত, কোথাও বা দিনের আলোতে পথে থাকবে মেয়েরা। এই পৃথিবী অর্ধেক নয়, আজ রাত পুরোটাই মেয়েদের হোক।
এমন শহর কখনো দেখিনি আগে।