মার্গে অনন্য সম্মান সুমিতা বেরা (সেরার সেরা)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার

পাক্ষিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ১৯
বিষয় – বারো মাসে তেরো পার্বণ / বাংলার পার্বণ

বারো মাসে তেরো পার্বন

এতো ভঙ্গ বঙ্গ দেশে এতো রঙ্গ ভরা
জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে                                          উৎসবে সব মাতোয়ারা !
হিন্দু শিখ বৌদ্ধ মুসলিম জৈন খ্রিস
ভিন্ন ভিন্ন উৎসবে …                                              সামিল হয় পরস্পর
বারো মাসে তেরো পার্বন l .
প্রাচীন বাংলায় আর্য অনার্য                                     গ্রামীণ সাঁওতাল সম্প্রদায়
সবার ধর্মানুষ্ঠান স্থান পেয়েছে এই বাংলায় !
মুসলিম পরব মহরম , ঈদ
খিস্টান দের বড়দিন পাঞ্জাবী দের হলো গুরুনানকের শুভ জন্মদিন
এছাড়া জাতীয় উৎসব স্বাধীনতা দিবস, রবীন্দ্রনাথ গান্ধীজি নেতাজির শুভ জন্মদিন
একঘেয়েমি জীবনে বৈচিত্র আনে বিভিন্ন                  উৎসব মুখরিত এই সব দিন !
বৈশাখ থেকে চৈত্র এই বারোমাস
জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলে                               নানা উৎসবে করে যোগদান ,
বৈশাখে নববর্ষ — মাসের প্রথম দিন                         আনন্দ হৈহুল্লোড়ে কেটে যায় সারা দিন ,
ঘরে বাইরে দোকানে বাজারে চলে পূজাপার্বন          নতুন বস্ত্র পরিধান হালখাতা আর
দোকানে দোকানে মিষ্টির প্যাকেট                           নতুন ক্যালেন্ডার বিতরণ …
জ্যৈষ্ঠমাসে জগন্নাথের স্নানযাত্রা
বহুলোকের পুণ্য সমাগমে স্নান জলে                       সুগন্ধি ফুল চন্দন…
জামাই ষষ্ঠী হল একটি সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজন l
আষাঢ়ে রথযাত্রা ভারি ধুমধাম !
দেশবিদেশের লক্ষাধিক ভক্ত সমাগমে                     পুরি তীর্থ স্থান করে গমগম !
সারা বাংলায় পালিত হয়.. রথ উৎসব
হুগলির মাহেশের রথযাত্রা ভারি মনোরম
মেলায় ঘুরে ঘুরে পাঁপড় ভাজা বেগুনি জিলিপি খাওয়া রথ যাত্রার প্রধান আকর্ষণ
শ্রাবনে ঢলো ঢলো বৃষ্টি বরণ
শিবের মাথায় জল ঢেলে করে সব                            পুণ্যি আহরণ
সামাজিক ধর্মীয় পারিবারিক ঐকতার বন্ধন
রাখি বন্ধন উৎসব..
মা মনসা পুজো উৎসবে বহু মানুষ জনের হয় সমাগম
ভাদ্র মাসে হয় বিশ্বকর্মা পূজার আয়োজন
কলকারখানা ব্যবসা বাণিজ্য ক্ষেত্রে এই পূজার হয় প্রচলন …
এই পুজোর মাধ্যমে শ্রমিক শ্রেণীর মানুষের মধ্যে হয় নিবিড় ঐক্য স্থাপন ,
এইদিন ঘুড়িতে ঘুড়িতে.ছয়লাপ হয় নীলাকাশ .
ভাদু মাসে ভাদু পুজো হয় নিষ্ঠাভর..
.
শরৎ কালের শুক্লা দেবী পক্ষে বাংলার                       সর্বশ্রেষ্ঠ জাতীয় পূজা – দূর্গা পূজা উৎসব !
এই পুজো কে কেন্দ্র করে সামাজিক পারিবারিক ও ধর্মীয় নিবিড় যোগাযোগ স্থাপন
বিজয়া দশমী তে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে ঘটে পারস্পরিক সৌহাদ্য ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন ,
পিতৃ পক্ষে অমাবস্যায় হয় আলো আর বাজির উৎসব
শ্যামা মায়ের পুজো আর শুভ দীপাবলির ধুমধাম আয়োজন –
আর আছে এক মধুময় স্নেহমাখা সম্পর্ক ভাইবোনের ভ্রাতৃদ্বিতীয়া উৎসব !
কার্তিকে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয় রাশ উৎসব

অগ্রহায়ণ মাসে কৃষি নির্ভর জীবনের নতুন অন্ন দিয়ে হয় নবান্ন উৎসব…
সুগন্ধি নতুন চালে নতুন গুড়ের সুবাসে
নানা পদের পিঠা পুলি.. দই চিঁড়া তে হয় পৌষ পার্বন

মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমীতে বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা হয় সমাপন
বসন্ত ঋতুতে হয় জাতীয় সৌহাদ্য পূর্ণ রঙের উৎসব দোল উৎসব
চৈত্র তে নীল পূজা আর গাজন উৎসব
বারোমাসি তেরো পার্বন হইলো সমাপন
উৎসবে মেতে গিয়ে ভুলো না মানবিকতা বোধ, জাতপাত, ধনী দরিদ্র ভেদাভেদ ভুলে সবাই হও আনন্দে মগন
বাংলার বৈচিত্রময় উৎসবের সার্থকতা তবেই হবে সম্ভব l
কৃষি প্রধান বাংলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় উৎসব নবান্ন উৎসব..
নবান্ন উৎসবের একটি কবিতা করিলাম নিবেদন
ধান কাটি.. কাটি ধান.. ধান কাটি ধান —
এলো রে এলো রে হেথা হিমেলী অঘ্রাণ,
সোনা – রঙা পাকা ধানে ভরে আছে মাঠ হতে মাঠ
হিমেল হাওয়ায় দুলিয়ে সোনালী মাথা,
গাইছে তারা মৃদু মৃদু গান…
রোদ – বৃষ্টি – ঘামে ভিজে কৃষকেরা করলো যে, অক্লান্ত পরিশ্রম,
তারি ফলে ফলেছে এই সোনার ফসল ।
ধান কাটা শেষ হলে বাঁধা হলো আঁটি ,
বোঝা নিয়ে গৃহে চলে চাষী, মুখে বিজয়ের হাসি ।
ঝাড়াই-মাড়াই শেষ হলে গোলা ভরে ধানে,
আমন ধানের সুবাসে ঘর-বার ম-ম করে ।
সারা গ্রাম – গঞ্জে আজ কারোর নেই ফুরসত !
ধান – ছড়া দিয়ে হবে নবান্ন উৎসব ।
গোবরে নিকোনো উঠোন সেজেছে আজ পিটুলি গোলা আল্পনাতে,
তারি এক পাশে তুলসি-বেদী তে সান্ধ্য প্রদীপ জ্বলে
শঙ্খ-উলূধ্বনি আজ বাজে ঘরে ঘরে –
ভেদাভেদ ভুলে সব লক্ষীপুজো তে মাতে,
পিঠা হবে পুলি হবে, কাটা হবে ফল
ঘরে ঘরে লক্ষী – প্রসাদ হবে বিতরণ ।
ভরপেটে ছেলে পুলে করে হুটোপুটি
তাই দেখে কিষান – কিষানীর গাল ভরা পরিতৃপ্তির হাসি ।
পিঠা খাবো পুলি খাবো ঝোলা গুঁড়ে মেখে ,
আর খাবো নতুন চালের ধোঁয়া ওঠা ফেনা ভাত সবে মিলে রাতে ।
গ্রামে – গঞ্জে আজ বসেছে পাবনী মেলা
শহরতলি তেও বসেছে হরেক গ্রাম্য মেলা
এইদিনে পূজাপাঠ হয় শহরের ঘরে ঘরে
নতুন চাল আদাবাটা নারকেল আর চিনি বাটায় হয় নতুন চালবাটা.. ভারি সুস্বাদু খেতে লাগে !
ঘরে ঘরে গোকুল পিঠা পাটিসাপ্টা দুধ পুলির সুগন্ধে চারিদিক ম ম করে !
এই দিন শহর গঞ্জ নবান্ন উৎসবে মেতে ওঠে
দূরে – দূরে মাদল বাজে —মহুয়া মাতাল হয়ে আনন্দে সব মাতে.. !
ধান কাটি… কাটি ধান… ধান কাটি চল
এলো রে এলো রে হেথা নবান্ন উৎসব ।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।