রাই সিরিজের কবিতায় সুব্রত ভট্টাচার্য (ঋক তান)

কথাটি আর বলা হয়ে ওঠে না
কথাটি আর বলা হয়ে ওঠে না,
অথচ এই কথাটুকু বলার জন্য কতোবার প্রস্তুত হয়েছি,
কতোবার জলপাত্রে ঠোঁট রেখেছি,
করোটিতে একের পর এক গেঁথেছি কথার শব্দমালা-
তুমি যখন মুখোমুখি হলে, চোখে স্থির করেছো
তোমার হরিণ নয়নের দূর গগনের তারা,
আমি তখন এতোটাই
দিশেহারা হয়ে গেলাম —
দিগ্বিজয়ের উচ্ছাস দেখতে চেয়েছিলাম
সব বিদীর্ণতা কে ভুলে গিয়ে, কিছুটা সময় এ ডুবে গিয়েছিলাম আপন আঁধারে…
হঠাৎ যেনো অনুভূতির জোয়ারে।
ভাবলাম, বলি কথাটা—!
থাক না এবার, তবুও একটা স্বপ্নীল রংধনু স্বপ্ন নিয়ে—
আবার পাহাড়ের উপর দাঁড়ালাম ;
পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বললাম—
‘তুমি কি আমার কথা ওকে বলবে?’
পাহাড় হেসে বলেছিল,
আমি তো একা স্তম্ভিত স্নায়ুর মতো দাঁড়িয়ে আছি
আর স্বপ্নবাসের সঙ্গে কখন ঘুমিয়ে পড়ি, কখন জেগে উঠি
তা আমি নিজেই জানি না।
তুমি বরং মেঘকে বলো—
ও তোমায় সঠিক পথ দেখিয়ে দেবে,
আমি মেঘকে বললাম,
‘কি করে ওকে একটি কথা বলবো?’
মেঘ হেসে উঠলো, বললো —
চলো আমার সঙ্গে ‘
মেঘের সঙ্গে ভেসে বেড়ালাম–
বাধাগুলোকে বাদামের আবরণের মতো এক -ফুঁ তে
উড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি ;
না, তাও বলা হয়ে উঠলো না..
মেঘ তখন বললো —
আমার ভিতরে সুপ্ত ভালোবাসা নিয়ে বইছে জল। সেই জল সমুদ্র কে দি।
তুমি সমুদ্র কে বলো…
আমি সমুদ্রকে বলতে
সমুদ্র বললো ,
আমিও একজন বন্য ঘোড়ার মতো যৌবন পীড়ার প্রেম পিয়াসী পুরুষ
আমার জীবনে নোনতা স্বাদ আছে
কাঁকড়ার মতো জীবনের চোরা বালির গর্তে বিছানা বিছিয়ে প্রেম পিয়াসী নারীর সাথে খেলতে পারি।
কবিতার মতো নারীর শরীরে কাশফুলের কোমল ঢেউ খেলে গন্ধটা নিজের মতো করে শুঁকতে পারি;
তবুও পিছুটান নিয়ে বাঁকা চোখে অবজ্ঞা কেন?
একরাশ ভালবাসার ঢেউ নিয়ে ছুটে এসে, শেষে পাথরের ওপর নিজে কান্না ভেজা কণ্ঠ নিয়ে মাথা ঠুকে মরি।
মনের দোরগোড়ায়;
জোৎস্না স্নাত রূপালী স্বপ্নটা
স্বপ্নবাসরে মতো মধুময় হয় না।
আমি সমুদ্র থেকে নিশীথের পথ ধরি—
দক্ষিণের জানলা খুলে দমকা হাওয়ায়’
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখি
নিজের জীবনের বিরহের ক্ষয়ে যাওয়া চিহ্ন।
ক্লান্ত শরীর ক্ষত কে পাশে রেখে ,
এইভাবে এঁকেই চলি জীবন বৃত্ত দেশবিদেশে অশ্রুতে অভিমানে—
কথাটি তাই আর বলা হয়ে ওঠে না।