মার্গে অনন্য সম্মান সুচন্দ্রা বসু (সেরার সেরা)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ৯৫
বিষয় – রথযাত্রা
রথযাত্রা
মাহেশের রথ সাজিয়েছিল ব্রিটিশ কোম্পানি।
শতবর্ষ কবেই পার হয়ে গিয়েছে৷ রথের দিনে লোক সমাগমে গমগম করে মাহেশ৷
শ্রীরামপুরের মাহেশে রথযাত্রা উৎসবে
বহু দর্শক, ভিনদেশী পর্যটকরা আসেন।
এই রথ ঘিরে জড়িয়ে আছে গল্পকথা৷ মানুষের হাতের ছোঁয়ায় রশিতে টান দিয়ে এমনই আনন্দ প্রতিবছর হয়৷
ব্রিটিশ কোম্পানির হাতে নবরূপে এসেছিল বিখ্যাত মাহেশের রথ৷কিংবদন্তী ইতিহাস বলে সাধক ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী স্বপ্ন পেয়ে গঙ্গায় ভেসে আসা নিমকাঠ দিয়ে দারুমূর্তি তৈরি করেন। পরে ১৭৫৫ সাল কলকাতার নয়নচাঁদ মল্লিক মাহেশে জগন্নাথ দেবের মন্দির তৈরি করেছিলেন৷ সময়ের সঙ্গে সেই রথ জীর্ণ হয়ে পড়েছিল।
কৃষ্ণরামের ছেলে গুরুপ্রসাদ ১৭৯৮ সালে নয় চূড়াবিশিষ্ট নতুন রথ বানিয়ে দিয়েছিলেন। সেই রথ ঘিরেই উৎসবে মেতে উঠতেন সবাই৷ তবে সবকিছু পুড়ে খাক হয়ে গিয়েছিল ১৮৮৪ সালের অগ্নিকাণ্ডে৷ সেই দিনও ছিল রথযাত্রা উৎসব৷ বল্লভপুরে গুন্ডিচাবাটিতে রথটি আগুনে পুড়ে যায়। সেই সঙ্গে শেষ হয়ে গিয়েছিল পুরাতন মাহেশের রথ৷
পোড়া রথের দিকে তাকিয়ে এমনই আফসোস করেছিলেন শ্রীরামপুরবাসী৷ তখন বসু পরিবারেরই কর্তা কৃষ্ণচন্দ্রবাবু বর্তমান লোহার রথটি তৈরি করিয়ে দেন।
রথ বানাতে এগিয়ে এসেছিল ব্রিটিশ মার্টিন বার্ন কোম্পানি৷ তাদের ইঞ্জিনিয়ারদের হাতে মাহেশের রথটি তৈরি হয়। সেই সময়েই এর দাম পড়েছিল ২০ লক্ষ টাকা। ১৮৮৫ সাল থেকে ফের ওই রথের রশিতে টান শুরু হয়। সেই থেকে এক ভাবে ওই রথ চলছে। ৫০ ফুট রথে ১২টি লোহার চাকা হয়েছে।মার্টিন-বার্ন কোম্পানি৷ দেশের শিল্প ইতিহাসে এই সংস্থার নাম জড়িয়ে রয়েছে৷ ১৮৯০ সালে গড়ে ওঠে মার্টিন অ্যান্ড কোম্পানি৷ মাহেশের রথ নবরূপে তৈরি করাই ছিল সংস্থার অন্যতম কাজ৷ ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীনতম এবং বাংলার প্রাচীনতম রথযাত্রা উৎসবকে ঘিরে জড়িয়ে আছে ব্রিটিশ কোম্পানির সাফল্যের ইতিহাস৷
সেবার মাহেশের রথযাত্রার ৬২৪ বছর। মার্টিন বার্ন কোম্পানির নির্মিত লোহার রথের বয়স ১৩৫ বছর। আগে ছিল কাঠের রথ। মাহেশের রথযাত্রা দেখতে মানুষের সমাগম হয় এতোটাই যে সামাজিক দূরত্ববিধি মানা অসম্ভব। তাই রথযাত্রা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। জগন্নাথের স্নানযাত্রা উৎসব এবার জগন্নাথ মন্দিরেই হবে। প্রথা অনুযায়ী, সোজা রথের দিন জগন্নাথদেব মাসির বাড়িতে যান।আর উল্টোরথের দিন ফিরে আসেন। নিয়ম রক্ষার্থে মন্দিরের মধ্যেই মাসির বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। শুধুমাত্র নারায়ণ শিলাকে মাসির বাড়ি পাঠানো হবে।
রথযাত্রা উৎসবে এখানেই থাকবেন জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রা। সেখানে পূজা অর্চনা হবে রীতি মেনে। রথের পাশে সাত পাক ঘোরানো হবে নারায়ণ শিলা। পুজো হবে রথের। এই রথ ৫০ ফুট উচ্চতার, লোহার ১২টি চাকা। ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীনতম রথযাত্রা মাহেশের রথযাত্রা। মাহেশের এই রথ পরিচিত নীলাচল নামে। কথিত আছে, চৈতন্য মহাপ্রভু থেকে রামকৃষ্ণ দেব এই রথযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন।