রাই সিরিজের কবিতায় সুব্রত ভট্টাচার্য (ঋক তান)

বিদায় বেলায় বহুক বিরহী বাতাস
রাই,যদি কোনোদিন আর দেখা না হয়
যদি ছায়াখানি চিরতরে হারিয়ে যায়
যদি সোনালী দিনের কথা গুলো
মনে পড়ে —
মন খারাপের দিন গুলো ভুলে যেয়ো।
যদি কোনোদিন আবার মনে পড়ে ফেলে আসা দিন গুলি
সেদিন যেনো নামে না তোমার চোখে শোকের ছায়া
সেদিন শুধু ধূ – ধূ বুকে মরু ঝড় সামলে রেখে ,একবার শুধু এসে দেখে যেও
রাই,সেদিন তুমি বসন্তের ফুলে
আমায় সাজিয়ে দিও!
মাথার চুলে হাত বুলিয়ে আদর করে বলো কানে কানে —
নীল!আমার বুকের মাঝে একাকিত্বে সব অভিমান গুলো জমা রেখে দিলাম
পৃথিবীর সব সুধা!
আর একবার বলে যেও অপলক চোখে —-
আজও তোমায় আমি খুবই ভালবাসি নীল।
রাই,আমায় হারিয়ে তুমি জিতে যেও
তবুও স্মৃতির পাতায় খোঁজ রেখো
শীতের মিষ্টি রোদ্দুরে বসে
নীল আকাশে দিকে তাকিয়ে
জিজ্ঞাসা করো কেমন আছি আমি।
আমার অপেক্ষায় সারাদিনের সময় পেলে আমার লেখা কবিতা তোমার কণ্ঠে পাঠ করে দিও —
আমি ঠিক শুনতে পাবো
ইথারে ভেসে তোমার কন্ঠস্বর
তরঙ্গের দোলায় মিলেমিশে
হাজার মাইল দূরে !
পাখির গানে হয়তো বা সবুজ ধানের শীষে।
চোখ রেখো রাস্তায় মেঘ কালো প্রলয় শিখার জ্বলনে
মনের খাতায় দেখো
আপন করে, আমার লেখা
অজস্র শব্দের আঁকিবুকি!
কৃষ্ণচূড়ার দিন যদি সেদিন আসে, রাধাচূড়া স্পর্শে এঁকো নীরব নিবিড় আলপনা ;
জগৎ নিয়ম মেনে ফিরে আর তো আসবো না।
মনটা যেন না হারিয়ে
আমায় ভুলে সুদূর পারে—
জীবননদীর স্তব্ধ বাঁকে একলা থেকো রাই !
বিদায় বেলায় বহুক বিরহী বাতাস,
পলাশ রঙা দিনের শেষে শুনবে পাখির গান।
থেকো আমায় হারিয়ে প্রবল প্রেমে দুঃখ মুছে —
আমার নামে লিখে দিও
যতনে তোমার বুকের ঘর–