রাই সিরিজের কবিতায় সুব্রত ভট্টাচার্য (ঋক তান)

তিস্তা নদীর পাড়ে
তিস্তা পাড়ের কুড়িগ্রামে
ভাঙলো পাড়ের ঘর
ঢেউ উঠেছে পাড় ভাঙছে
কাঁদছে আপন পর ।
ভালো-মন্দ জীবন সকল
ছিল গাঁয়ের জুটি
গভীর রাতে ডাকছে ডাহুক
ঘুম গেয়েছে ছুটি।
গাঁয়ের ছেলে বন্দে আলী
চোখ তার অনেক দূরে
একাই সে দৌড়ে যায়
তিস্তা নদীর তীরে।
বাঁধ ভেঙেছে,জল ঢুকছে
ছুটছে অলি-গলি
কোদাল ঝুড়ি নিয়ে দৌড়ায়
গাঁয়ের বন্দে আলী ।
কুড়ি গ্রামের মাটির ঘর
চোখের জলে ভাসে
পরান কাকা, রফিক কাকা
হাপের টানে কাশে।
হু-হু করে জল বাড়ছে
গাঁয়ের নিচু ঢালে
ছেলে বুড়ো হাঁক পারে সব
ডোবা জমির আলে।
বন্দে আলী,বন্দে আলী
তুমি কোথায় ভাই?
নদীর পারে একা আমি
তোমাদের ভয় নাই।
কোদাল দিয়ে জুড়ছি এখন
মাঠে ভাঙন পাড়
জমি বাড়ি বাঁচবে এবার
মানবো না আমি হার।
ভোর হয়েছে গা ডুবেছে
পাড় ভেঙেছে পড়ে
বন্দে আলী কোথায় গেল
ভাবনা থরে থরে ।
বন্দে আলী,বন্দে আলী এখন
তুমি কোথায় ভাই ?
কুড়িগাঁয়ের ছেলে বুড়ো, তোমায়
খুঁজে যে -না পাই।
বন্দে আলী পড়ে আছে
তিস্তা নদীর পাড়ে
মৃতপ্রায়, শ্বাস চলছে,
বৃষ্টি ঝরা সকালে।
পাড় জুড়েছে চেয়ে ভাবে,
গাঁ- টা বাঁচলো এবার
বন্দে আলি নিথর হলো
নিঃশেষে, চির নির্বিকার।
বন্দে আলি,বন্দে আলী এখন
তুমি কোথায় জানিনা–
বলে যাও তুমি পাখির ঠোঁটে
তোমার পথের ঠিকানা।।