মুক্তগদ্যে শান্তনু ভট্টাচার্য

ভালোবাসি শুধু

নবমীর রাত পেরিয়ে সকাল হল, বাজলো বিষাদের ঘন্টা।
বাপের বাড়ির আনন্দ কাটিয়ে, কালের অমোঘ নিয়মে ঊমার পুনরায়
দেবাদিদেবের কাছে ফিরে যাওয়ার পালা।
শুরু হলো চোখের জল ফেলতে ফেলতে বিদায়ের তোড়জোড়।
আসলে সমস্যাটা হলো এই, ছানাপোনাগুলোও কেউ মায়ের হাত ধরে, কেউ আঁচল ধরে,
কেউ মা এর পিছনে পিছনে ঘর খালি করে চলে যাবে যে! এমনকি বউ মা টা পর্যন্ত! এমনি করে সবাইকে একসাথে চলে যেতে হয় !

তবুও লক্ষী দিদি তো মুখে অন্তত বলছে চারদিন পরে আসবে। কুবের কাকার সাথে জরুরী কিছু আর্থিক বিষয়ক মিটিং আছে মনে হয়!

আসলে এই মাকড়সার জালের মত মহামায়ার মায়া আর সেই মায়ার বন্ধন এই দুইয়ের মধ্যেই আমরা ঘুরপাক খাচ্ছি। তাই জন্যই বোধহয় এই জাগতিক পরম্পরা গুলোর প্রত্যাবর্তনের কুহকীনী আশার চন্দন গাছটাকে প্রতিদিন বুকে ধরে লালন করাতেই আমাদের একটু স্বস্তি – কবে একদিন সেই চন্দন গাছ বড় হবে, কাঠ হবে, ঘষে সেই চন্দন দিয়ে সাজাবো মাকে আর ছানা পোনা দের।
আসলে আমরা আশা আর প্রতীক্ষা এগুলোকে জীবনে অতিরিক্ত মাত্রা দিয়ে,
বর্তমান নামক কাল টি কে নষ্ট করে ফেলি, যা পরবর্তীকালে কর্মহীন, আলস্যতায় ভরা অতীত এ পর্যুবসিত হয়,
চলে যায় কালের গর্ভে যার পুনর্লিখন হয় না সেই মহাকালের বাঁধা নিয়মে, যে নিয়মে সূর্য-চন্দ্র র উদয় অস্ত, ঋতুচক্র, জীবন-মরণ সব ই।

মা, তাই আমরা এবার বর্তমানটাকেই সুন্দর থেকে সুন্দরতর করতে সচেষ্টা হব এবং বর্তমানটাকে নিয়েই বাঁচবো মাগো! ভবিষ্যতের চিন্তা করার আমরা কে! সে চিন্তা তো তোমার!

তুমি ভালো থেকো মা। আমাদের এই কর্মময় জীবনে আপন আপন কর্ম টুকু যেন সুন্দরভাবে করে যেতে পারি সেই আশীর্বাদ টুকু দিও। জানিনা “তোমায় খুব ভালোবাসি” – এই কথাটার মধ্যে আত্মিক টান, নাকি আত্মিক দুর্বলতা কোনটা লুকিয়ে আছে! সেই আত্মিক টান এর থেকেই বলি – তোমায় খুব ভালোবাসি – আর কিছু না, কিছু না।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।