কবিতায় শহিদ আজাদ

কামনার সাতকাহন
অন্তরঙ্গতায় মিশে থাকে ভালোবাসার পরশ
ইচ্ছেনদী উতলায় ঢেউয়ের তালে তালে
শরমের ঢাকনা খুলে ফোঁস ফোঁস করে ঝাঁপি
ঝিনুক যোনিতে ঝরে ফোঁটা ফোঁটা শিশির
শিৎকারে চিৎকারে ঝড় তুলে চেতনার রন্ধ্রে রন্ধ্রে
শুকিয়ে কাঠ হয় বুকের ছাতি
উঠানামা করে বুকের সীমানা
ছিঁড়ে কুটিকুটি করতে ইচ্ছে করে শরীরের বসন
ভাঙ্গতে ইচ্ছে করে সাজানো কাঁচের গ্লাস
খামচে ধরতে ইচ্ছে করে যে কোন হৃষ্টপুষ্ট পুরুষ
বুভুক্ষু বাঘের মতো কামড়াতে ইচ্ছে করে নিজের হাত
ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে ইচ্ছে করে
শীতল ঝর্না ধারায়
লন্ডভন্ড করতে ইচ্ছে করে বিছানার চাদর বালিশ
সোহাগী যাতনায় জ্বলতে ইচ্ছে করে জ্বলন্ত অগ্নিশিখায়
ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করে পুরোনো বসত বাড়ি
দরোজার সিটকিনি খুলে
যেতে ইচ্ছে করে অন্য কোন দরোজায়।
যার তরে মন এত তড়পায়
যার তরে শরীর এত ঝলকায় বিদ্যুতের মতো
যার তরে ইচ্ছে ডানা উড়াল মারে পরিযায়ী পাখির মতো
যার তরে মন চায় হয়ে যেতে এক উদাসী বাউল
যার তরে একতারা বাজে হৃদয়ের কুঠুরিতে অনুক্ষণ
যে আমারে জ্বালায় পোড়ায় উত্তপ্ত করে
ফুটন্ত জলের মতো অথচ দেয় না সম্ভ্রমের অধিকার
যে আমারে ভালোবাসে অথচ ফিরিয়ে দেয় বারেবার।