তোমাকে বলা হয়নি স্বাধীনতা,
একটা গলির শেষে আমাদের বাড়ি
আমাদের বাড়িটা জলের মতো সুন্দর
ঢেউয়ের মতো ছোট্ট
আমাদের বাড়ির একটা নিজস্ব আলো আছে
একটা নিজস্ব ঋতু আর একটা কাঠের নরম ব্রিজ
যতবার আমি বাড়ি ফেরার কথা ভাবি
আমার মাথায় বাড়িটার পাশাপাশি ওই গলির কথাও আসে
সন্ধেবেলা আমার প্রেমিক
আমাকে ওই গলিটা পাড় করে দেয়
কারণ ও মনে করে গলিতে কিছু কালো বিছে ঘুরপাক খায়
যারা আমাকে কামড়ে দিতে পারে
কিছু সুযোগে বাঁদর আছে
যারা আঁচড়ে দিতে পারে আমার পিঠ
তোমাকে বলা হয়নি স্বাধীনতা,
আমি এখন ওই গলিটা দিয়ে হাঁটছি
সারাজীবনের হাঁটা
তবু গলিটা শেষ হচ্ছে না কিছুতেই…
তোমাকে বলা হয়নি,
আমার দাদার চাকরীটা চলে গেছে
দাদা আজকাল ছাদের ওপর বসে থাকে চুপচাপ
নিজের মনে রংবেরঙের বেলুন ফোলায়
একদিন ছাদে গিয়ে দেখি
এত বেলুন ছাড়ানো আছে ছাদে
যে পা ফেলবার জায়গা নেই
দাদার ওপর আমার ভরসা আছে
জানি একদিন ও এত বেলুন ফোলাবে
ছাদ থেকে উপচে পড়বে সেসব
ছড়িয়ে পড়বে গোটা শহরে
দাদা আমায় বলেছে, মানুষ নয়, গাড়ি নয়
ও বেলুনের নীচেই চাপা পড়ে ঘুমিয়ে পড়তে চায়…
তোমাকে বলা হয়নি স্বাধীনতা,
আমার বাবার চোখের দৃষ্টি কমে যাচ্ছে রোজ
কদিন বাদে বাবা হয়তো অন্ধ হয়ে যাবে
মা বলেছে, তার আগে বাবাকে সবকিছু দেখিয়ে দিতে হবে
গাছের কষ্ট, পুকুরের হাহাকার, মাঠের একাকীত্ব- সব
বাবা অবশ্য বলেছে, ওসব না,
আমার বিয়েটা দেখে যেতে চায়
বাবাকে বলিনি, বিয়ে নামক বালখিল্য
আর থাকবে না বেশীদিন
সব বদলে যাবে- যেভাবে বদলে যাচ্ছে সব
পুরোনো সম্পর্কের রসায়ন থেকে সাবেকী মূল্যবোধ
বদলাবে সব অং বং চং
থাকবে শুধু বেলুন আর বেলুন
দাদার শূন্যতা,মায়ের উৎকণ্ঠা আর প্রেম
আমার প্রেমিকের নাম নতুন ভারত
বাবাকে বলব একদিন
যে আজও সন্ধেবেলা
আমাকে একটা অন্ধকার গলি পাড় করিয়ে দিতে এসেছে…