সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি (পর্ব – ৪৪)

পুপুর ডায়েরি

রেলব্রিজ আর চারু মার্কেট মানেই পাশে লেক।
এইগুলো নিয়েই পুপু।
তার আত্মপরিচয়, তার বড়ো হয়ে ওঠা।
ইদানীং লেকের লোহার রেলিং গুলো পাল্টে যেতে দেখে কী ভীষণ মন খারাপ হলো তাই। মনে হল আত্মীয় কেউ চলে গেল যেন। আর তার সাথে হারিয়ে গেল ছোটো পুপুর খানিকটা।
এই লেকের গাছগুলোর গুঁড়ির মধ্যে যে কনসেন্ট্রিক বৃত্তে ওদের বয়েসের হিসেব ছক কেটে রাখা আছে তার মধ্যে সিডির মতো প্রিন্ট করা আছে আমার সময়।
ছোটো বেলা।
লোহার গেটে চড়ে দুলছি। ঠং ঠং ঠং। শুধু মাত্র লোহার একটা ঘুরে যাওয়া ছোটো গেটে চড়ার যে অনাবিল আনন্দ, সেটা ছোটোরা জানে। আর যে বড়োরা ভুলে যায়, তারা বেদম বুদ্ধু।
লেকের গাছেরা সেই ছোটো পুপুকে জানে, চেনে।
বর্ষায় টিপটিপ জল, লিলিপুলের শাপলার পাতায়… জাপানি ছবির চেয়ে কম কিছু নয়। গোলাপি ফুলের বন। কুঁড়ি। গোল গোল পাতা। পাতায় জলের ফোঁটার সঙ্গে বড়ো হওয়ার মন কেমন। নার্সারি থেকে হাই স্কুল , ফ্রক থেকে টিউনিক। স্কুল শেষ।
ঢাকুরিয়া লেক। সেই প্রান্তে ক্লাস করে, সাঁতার কেটে, বন্ধুদের সঙ্গে পাতা মাড়িয়ে মাড়িয়ে লেকের এই প্রান্তে ফেরা।
এইসব নিয়েই পুপুর বড়ো হওয়ার ডায়েরি।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।