সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি (পর্ব – ২৩)

পুপুর ডায়েরি

এক কামরার ঘর। ঘরের দরজা দিয়ে ঢুকেই ডান হাতে, বাইরের লম্বা রোয়াকের সামনে জানালা।
ওই জানালাটা অনেক কাজে লাগতো।
আমার পুতুল খেলার জায়গা হিসেবে। সারাদিন বসে বস্তির বাচ্চা আর লোকজনের কার্যকলাপ দেখতে…
আবার বাবার ঘাড়ে উঠে দুর্গা পুজোর ঠাকুর বিসর্জন দেখে বাড়ি ফিরে, আমার পুতুলদের খাটের ওপর মা দুগগা, লক্ষ্মী, গণেশ বানালাম, আর, ” বলো দুগগা মাই কি, আসছে বছর, আবার হবে… ” বলে জানলাতে বিসর্জন ও দিয়ে দিলাম।
মা তখন হাত মুখ ধুয়ে রান্না চড়াতে গেছেন রান্না ঘরে।
বা-কে বললাম, বাবা সঙ্গে বলো!
বা মশাই বলল তো সঙ্গে সঙ্গে।
“আসছে বছর, আবার হবে.. ”
সে যে কী মজা, কী মজা!!
তখন আমার বাড়ির ড্রেস মানে, স্যান্ডো গেঞ্জি, ভুঁড়িতে টাইট। আর লাল টুকটুকে বা সাদা টাওয়েলের ড্রয়ার। প্রায় ক্রু কাট খোঁচা খোঁচা চুল। খুব সাদা ছিলাম। লাল নাক ওয়ালা। বাসে ট্রামে অনেকে মা-কে জিগেস করত, অবাঙালী বাচ্চা অ্যাডপট করেছেন নাকি। মা হাসত।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।