T3 || লক্ষ্মী পুজো || সংখ্যায় সোনালি

কোজাগরী
তোমরা কাজের মানুষ। আমি ত অতটাও নই। তাই চাট্টি হিজিবিজি লিখতে ভালোবাসি বরাবর।
আজ না লিখলেই নয়।
আমার বাড়ির কাজের মেয়েটি বলতে গেলে আমার কাছে কাজ শিখেই বড়ো হয়েছে। ওর মা আমাদের বাড়িতে কাজ করেন আমার বাইশ বছর বয়েস থেকে। থাকেন ও। তাই এই স্মার্ট তরুণীর আমি পিসি। “স” টা একটু সাম বাজারের সসি বাবু হয়। তা হোক।
তা সে-ই এখন আমার সকাল সামলায়। রোজ যত্ন করে জল খাবার চা ইত্যাদি পাট চুকিয়ে, লাঞ্চের ডিনার প্লেট, কাঁচা লঙ্কা, বাটি বাটি ডাল মাছ ইত্যাদি সাজিয়ে ঢাকা দিয়ে, ক্যাসারোল ভরে রেখে যায়, পিসে মশাইয়ের জন্য।
আজ আমিও ছুটিতে বাড়ি। দেখলাম যথারীতি ডাইনিং টেবিলে একটাই প্লেট গুছিয়ে রাখা। আর থাকতে না পেরে বললাম, হ্যাঁ রে, আমার জন্য কিছু গুছিয়ে রাখিসনি যে, কেন রাখিস না?
রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে এসে চোখ ছানাবড়া করে হাঁ করে তাকিয়ে রইল।
তারপর অবাক হয়ে বলল, তুমি খাবে???
আমি এইবারে আর না হেসে পারিলাম না।
গৃহিণী গৃহ মুচ্যতে… নাকি মহাকবি কালিদাস লিখেছেন।
অর্থাৎ কিনা গৃহিনীরাই গৃহকে ভালো বাসা বানান।
হিন্দু শাস্ত্রেও নাকি বলেছে, যে গৃহে নারীর আদর নাই তাকে দেবতারাও ছেড়ে যান।
তা, গৃহলক্ষ্মীর আদর কই?
হ্যাঁ, শাড়ি, ড্রেস, মেকআপ, গয়না… আছে।
তার জন্য গালি, বক্রোক্তি, পরোক্ষ চাপ, সেও নেই ?
না হয় এ গুলি আদরের চিহ্ন।
সত্যিই কী এগুলি খুব প্রাপ্তি?
তার চাইতে, রোজকার জীবনে একটু বিশ্রাম নেবার সময়, একটু স্বাস্থ্য সচেতন চিকিৎসা, একটু নেহাৎ আল্লাদের জন্য এক দিন বন্ধুদের সাথে দেখা করলে বিরক্ত না হওয়া, মানে ইংরেজিতে যাকে বলে, ” মি টাইম “, লক্ষ্মী বউকে একটু ” মি টাইম “, হেলথ চেক আপ ইত্যাদি উপহার দেয়া যায় না?
দম নেবার, কথা শোনার ভয়ে কাঁটা হয়ে না থাকার উপায় জীবনে বেশি থাকলে, রঙ দিয়ে মুখের কালিমা ঢাকার দরকার কম হয়।
এমনিতেই ঝলমল করে সৌন্দর্য।
রূপটানের পিছনে দৌড়াতে হয় না উদ্ভ্রান্তের মত।
লক্ষ্মীরা নিজেদের ঠিক কি কি চাই, আবারও ভেবে দেখুন।
সেল্ফিতে দামি শাড়ির ট্যাগ, গয়না আর লিপিস্টিকের বাহার, না শারীরিক কষ্টহীন, মনের লুকিয়ে রাখা কান্না আর বিরক্তি থেকে মুক্ত নির্মল হাসি।
ভেবেচিন্তে দাবি রাখো মা জননী।
তাতে দু চারটি দিন হাসপাতালের বাইরে টিকে থাকবে। কম হাঁফাবে। আকাশের রোদ আর কোজাগর পূর্ণিমার জ্যোৎস্নায় সুন্দর হয়ে উঠবে জীবন।
এসো মা লক্ষ্মী, অচঞ্চলা হয়ে গৃহের মাঝখানটিতে রানীর মত দাঁড়াও দেখি । মানুষের ঘর আদরের, তৃপ্তির গৃহ হয়ে উঠুক।