গদ্য কবিতায় স্নেহদিয়া

তোমার ভাবনায় আমি
সকালের মিষ্টি রোদে তোমায় ভেবে ভেবে ,
দুপুরের খরতাপ যখন আমায় পোড়াতে থাকে ,
তখন তোমার ভাবনায় আমার
মনটা ভীষন ভাবে পোড়ে…..! তখন তোমাকে খুব মনে পরে। এরপর বিকেলের উদাসী হাওয়ায় ,
তোমার ছবি দেখতে দেখতে সন্ধ্যা নেমে আসে,
এক চিলতে সুখের কাঁটার মতো একটু দেখা দিয়ে.. এও ভালো,
ওই সুখকাঁটায় যে মাদকতা তুমি রেখে যাও ,
তার আবেশে কখন রাত ভোর হয় বুঝতেও পারি না।
জানি না কেন করি আকাশে
তোমার সাথে চাউনি বদল.. কাল বিকেলের বৃষ্টিতেও কেমন এক ছন্দ ছিল..
মেঘ যেন গুড়ুগুড়ু স্বরে গাইছিলো কোন ঈমনের রাগ..
ঝিরঝির করে বাতাস বৃষ্টির গন্ধ নিয়ে তোমায় মনে করিয়ে দিচ্ছিলো..
হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি গায়ে মেখে অনুভব করছিলাম তোমার স্পর্শের…..
কেমন এক ছন্দ করে বাতাস বইছে,
এই ভেবে ভেবেই সমস্ত বিকেলের বরষণ সন্ধ্যা কেটে গেল,
আকাশের রং আমি গায়ে মেখে নিতে নিতেই ,
রাত নামলো তোমার চোখের গভীরতায়..
দূর দিগন্তে ধুসর রং চটা মেঘ
দেখে আমার কষ্ট হচ্ছিল ,
ইস আজ যদি বৃষ্টি হতো’,
যেই বৃষ্টি শুরু হলো তুমি দুহাতের অঞ্জলিতে ,
কত’ই না কায়দা করে বৃষ্টি’র জল জমানোর উৎসবে মেতে গেলে।
ভাবখানা এমন যে, যদি পারতে তবে বৃষ্টি’র একটা ফোঁটাও তুমি মাটিতে পরতে দিতে না।
যেন কত’ই না প্রতিক্ষার ফল এই বৃষ্টিজল।
কখনো সেই জলে তোমার ঠোঁট ভেজাও,
কখনো গালে ঘসে দাও।
আর ঝুম বৃষ্টিতে দুহাত মেলে
আকাশ’মুখো হয়ে তোমার
বর্ষাস্নান উজ্জাপন করো। যেন তোমার হাতের মুঠোভরা
এক টুকরো মেঘ আর আঙুল
বেয়ে নেমে যাওয়া জলধারা তুমি যেন এক বরষণ’ধারায় আরেক শ্রাবণধারার জন্ম দাও।
এক আনন্দধাম হয়ে যায় তোমার মুখ। যেন বৃষ্টিই তোমার প্রেয়সী আর,
বৃষ্টিধারায় স্নাত হয়ে তুমি তৃপ্ত হও।
যেন বৃষ্টি তোমায় জড়িয়ে ধরে তার জলত্রাসে ভিজিয়ে।
যেন বৃষ্টি তোমায় আদর করে
অবাধ্য চুলকে শাসন করে। বৃষ্টি ভালোবেসে স্মারক রেখে যায় তোমার কাঁধে,
গালে, কপালে, নাকে শিশিরের মতন করে জমে থেকে।
আমি বৃষ্টি হবো। শুধু তোমার জন্যে বৃষ্টি হবো।
আজকের ভালোবাসা তোলা থাক
আজকের ভালোবাসা তোলা থাক,
যেভাবে আমার জন্য ভালোর ভালোটুকু
তুমি তুলে রাখো।
কথাগুলো তোলা থাকুক সযতনে,
বলবোই সব একসময় নিরজনে।
বাসনাও থাকুক তোলা সংগোপনে,
সময়ে দেবো সব আগুনে দুজনে।
স্বপ্নঘোর থাকুক তোলা আজকার,
অন্যদিন বুনবো জাল ভালোবাসার।