সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি (পর্ব – ২৭)

পুপুর ডায়েরি
আমার জীবনে আমার শিক্ষক শিক্ষিকা, আমার ইস্কুলের আন্টি সারেরা, আমার বাবা মায়ের চেয়ে কোনো অংশে কম ইমপোর্টেন্ট নন।
ইন ফ্যাক্ট, যে হেতু বাবা মা দু জনেই ওয়ার্কিং, আর আমি একলা বাড়িতে ফিরি, এত আদর আমায় গরম চাদরের মত ঘিরে থাকতো, আই ফেল্ট কোকুনড অ্যান্ড সেফ।
আমি জানি না, কি এমন কারণে এত অজস্র স্নেহ আর আশীর্বাদ মাখা প্রশ্রয় ঝর্ণার ধারার মত মাথায় অনবরত ধারায় এসে পড়েছে, কিন্তু সেই স্মৃতির দিকে মুখ ফেরালেই বুকের মধ্যে উষ্ণ প্রণাম উচ্ছ্বসিত হয়ে আসে। এই অহৈতুকী কৃপাটুকু আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, এবং সবচেয়ে শক্তিশালী নিরাপত্তার বর্মও বটে।
আই ডু নট নো হোয়াট আই ডিড টু ডিজার্ভ সাচ লাভ, বাট মাই হার্ট ওভার ফ্লোজ এভরি টাইম আই থিংক অ্যাবাউট মাই টিচার্স।
সেই আগের কথায় ফিরে আসি।
আমার স্কুল সত্তরের দশকে, প্রাইভেট এবং ইংলিশ মিডিয়াম।
একেবারে নতুন ধরনের। সাউথ পয়েন্ট আর পাঠ ভবন স্কুল আরও একটু দক্ষিণ কলকাতার ভিতরে। তারপরেই সাউদার্ন অ্যাভিনিউর একেবারে মোড়ে নব নালন্দা।
এতে যেমন অক্সফোর্ড ক্যামব্রিজ ফেরত মানুষরা রয়েছেন, তেমনি ভীষণ ভাবে জড়িয়ে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। প্রতি পদক্ষেপে।
বাঙালির রাবীন্দ্রিক সংস্কৃতি, সেই শিক্ষাধারা, তার গান, আঁকা, রঙ, নাচের তাল, কবিতার স্বরক্ষেপ, অভিনয়ের অভিজ্ঞতা,শিশু মনের পরতে পরতে মাখিয়ে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা, আর তার সাথে অক্সফোর্ড প্রেসের বই খাতা মন্টেসরি শিক্ষার রীতিনীতি, পিয়ানোর সুরে গান আর সকালের শুরু, এই ইস্কুলের অনন্য পরিবেশ তৈরী করে তুলছিল।
এই সবই ছোটোদের কাছে পৌঁছে দেবার চেষ্টা করছিলেন শ্রী আর্য মিত্র আর শ্রীমতী ভারতী মিত্র দম্পতি, আমাদের রেকটর সার আর রেকটর আন্টি, তাঁদের সহমর্মি বন্ধুদের নিয়ে।
এঁদের ট্যাগ লাইন ছিলো আদর।
ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদা অনেক বাচ্চাই রেকটর আন্টির কোলে বসে বিস্কুট খেয়েছে আমার ছোট বেলায়।
আজকের দিনে, কোনো স্কুলেই এ ছবি হয়ত আর দেখা যায় না।