সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি (পর্ব – ৫১)

পুপুর ডায়েরি 

আষাঢ় মাস এলেই ছাতাদের খুঁজে বের করার তোড়জোড় চলে বাড়িতে বাড়িতে।
আমার ক্লাসের, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের রেজিস্টার খাতায় রোল নম্বর এক, মানে ,সুকন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি হোষ্টেল বাসিনী ছিলেন। এবং আমা হেনো হাবাকে নানান বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচাতে এমন নি:স্বার্থ ভাবে চেষ্টা করতেন, যে, আমি ও নির্বোধ থেকে ক্রমে ক্রমে বোধসম্পন্ন হতে চেষ্টা করতাম, মানে বিবেকের দংশন আর কি।
নইলে তো সেই তিনিই উদব্যস্ত হয়ে উঠবেন , ওরে তোকে নিয়ে কী করি ?!! ,বলে ।
ছিলো , এমন বেশ কিছু বন্ধু ছিলো এবং আছে, বলেই টিকে আছি ।
তো সেই সুকলমচি , ভীষণ সিরিয়াস বন্ধুটী ইদানীং আমার মতই স্মৃতিমেদুর হয়ে ছোট বেলায় শুনতে পাওয়া নানান রকমের আওয়াজদের কথা লিখছিলো ফেবুতে ।
তার সঙ্গে কথোপকথনে উঠে এলো ছাতা সারাবেন বলে হেঁকে যাওয়া মানুষজনের আওয়াজ ।
তাই বলছিলাম ,ওরে, বাড়ির পাশ দিয়ে আগে ডেকে যেত যে বুড়ো, ছাতা আআয়া হারাবেন…সে ত ভাঙা শিক সারাতেই আসত।

আমার মত ছাতাহীনরা তাই শব্দ লেখে। নইলে মাথাহীন হয়ে যেতাম এদ্দিনে। গেছিও না কি? লোকে না zানতি পারলেই চলে।
সেই যে তোতে আমাতে একবার শেয়ালদা ইস্টিশনে একটা বদ লোককে একবার ছাতা পেটা করব ভেবে ছিলাম…..
সেই গপ্পোটাই বলি ।
আমি আর সুকন্যা শেয়ালদা স্টেশন হয়ে বাড়ি ফিরতাম কলেজ থেকে সপ্তাহের শেষে ।
আমি হোস্টেলে অফিশিয়ালি সিট পাইনি । সুকন্যার গেস্ট হয়ে ওর পাশের বেড দখল করে ওকে জ্বালাই । নইলে প্রথম ক্লাসটা মিস হয়ে যায় অনেক সময়েই ।
তাই শনিবার এক সাথে দু শো তেইশ ধরে শিয়ালদহ ।
সেদিন বাস থেকে নেমে মেইন স্টেশনের দিকে হাঁটা লাগিয়েছি ট্রেনের সময় এসে গেছে প্রায় বলে ।
এমন সময় পিছনে কুই কুই করে গলা ।
দেখি আধময়লা গেঞ্জি আর লুঙ্গি পরা ছিঁচকে চেহারার একটা লোক প্রায় ঘাড়ের ওপরে এসে কী সব বলছে !
খুব সুকথা কিছু বলে মনে হচ্ছে না ।
সুকন্যা ভয়ানক ভুরু কুঁচকে বলল , পা চালা তো । ব্যটা বদ ।
আমরা প্রায় দৌড়ে ইস্টিশানের সিঁড়িতে উঠে দেখি , ও মা !
ঠিক নীচের সিঁড়িটাতেই আমাদের ঘাড়ের কাছে দাঁড়িয়ে বদ ব্যক্তি !
টিপ টিপ বৃষ্টি ছিল বলে সুকন্যার হাতে একখানা গোলাপি সাদা ফুল ছাপ ফোল্ডিং ছাতা ধরাই ছিলো ।

ও চট করে ঘুরে দাঁড়িয়ে,
— সোনালি , একটু পিটিয়ে দেব নাকি রে ?,
বলে ছাতাশুদ্ধু হাতটা তুলতেই , ছুঁচো মার্কা লোকটা এক লাফে সিঁড়ি থেকে নেমে দৌড়ে পিছনে ভিড়ের মধ্যে মিশে গেলো । বিজয়গর্বে দুই সালোয়ার পরিহিতা বীরাঙ্গনা যা হেসেছিলাম , সে কোন দিন ভুলব না ।
সুতরাং, ছাতারা হেলাফেলার জিনিস নয় মোটেই ।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।