সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি (পর্ব – ৫৭)

পুপুর ডায়েরি

তখন কে বড়লোক আর কে গরীব বুঝতাম না । আমার এত আদর , আর এত এত আদর সব জায়গায় ।
মানে বাবা মা তো আমায় একদম সমান একজন “অ্যাডাল্ট” মানুষ হিসেবেই ট্রিট করেন । আর মামাবাড়িতে , আমি , আম্মাই মানে আমার দিদার “সোনামনি ”।
দাদুভাই , ছোটমামা ,ছোটো মাসি , ( যে কিনা সোনা মাসি বা নুপুত আমার ভাষায় ) ,রাঙা মাসি , আর কুট্টি মাসি , যারা একদম এক রকম দেখতে দু জনে , যমজ বোন , বড় মামা , এদের সকলের আমি “পুপাই সোনা ” , কাজেই …
আমার ধারণা ছিল , আমি একটি ছোটোখাটো রাজকন্যা বিশেষ ।
তাই খুব গম্ভীর হয়ে থাকতাম । আর বড়দের মত প্রপারলি চিন্তা ভাবনা করার চেষ্টা করতাম ।
এখন বুঝি , সম্মান পেয়ে বড় হলে , তবেই মানুষ স্বাভাবিক ভাবে অনায়াসে সম্মানিত মানুষ হয়ে ওঠে । ছোটোদের রেস্পেক্ট দেওয়াটা ভীষণ জরুরী ।
যারা সম্মান না পেয়ে বড় হয় , তারা বড় হয়েও নিজেকে এবং অন্যদের সম্মান জানাতে পারেনা ।
ভয়ে , বাইরের চাপে মৌখিক সম্মান দেখালেও , অন্তরের মধ্যে সকলের প্রতি সন্দেহ আর কুনজর থেকেই যায় ।

যাই হোক , পু-দাদাদের বাড়ি থেকে পাশে পাপুদের বাড়িতে এসে বাড়িওয়ালা আর ভাড়াটে শব্দদুটো শিখলাম বটে , কিন্তু পাপুদের সাথে আমাদের স্ট্যাটাসের তফাৎ তেমন কিছু টের পাইনি ।
দুই বন্ধু মিলে কখনও এর ঘরে বাড়িতে কখনও ওর ঘরে বাড়িতে , একতলা দোতলা , ছাদে ছুটোছুটি করেই দিন কেটে গেছে ।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।