न मन्त्रो नौषधं तस्य न किञ्चि दपि विध्यते ।
विना जाप्यम् न सिद्ध्येत्तु सर्व मुच्चाटनादिकम् ॥
যে ব্যক্তি নিত্য এই কীলক স্তব পাঠ করেন সেই ব্যক্তির সিদ্ধিলাভে মন্ত্র, ঔষধ বা অন্য কিছুও আবশ্যক নাই। মন্ত্রজপ ব্যতীত কেবল এই স্তোত্র-পাঠে তাঁহার সকল উচ্চাটনাদি সিদ্ধ হয়।
🔻 अथ कीलकम् स्तोत्रम् 🔻
ॐ अस्य श्री कीलक स्तोत्र महा मन्त्रस्य । शिव ऋषिः । अनुष्टुप् छन्दः । महासरस्वती देवता । मन्त्रोदित देव्यो बीजम् ।
📌 অর্থাৎ,ঋষি মার্কণ্ডেয় স্বীয় শিষ্যগণকে নিম্নোক্ত কীলকস্তব বলিলেন-
নির্মল জ্ঞান যাঁহার দেহ, বেদত্রয় যাঁহার তিনটি দিব্য চক্ষু, যিনি মোক্ষপ্রাপ্তির কারণ এবং যাঁহার কপালে অর্ধচন্দ্র শোভিত, সেই মহাদেব শিবকে নমস্কার করি। ১
সর্ব্বমেতদ্ বিজানীয়ান্মন্ত্রাণামপি কীলকম্।
সোহপি ক্ষেমমবাপ্নোতি সততং জপ্যতৎপরঃ।। ২
📌 অর্থাৎ, এই কীলকস্তব সকল মন্ত্রসিদ্ধির বিঘ্ননাশক বরিয়া জানিবে। যিনি সতত এই কীলকস্তব পাঠ করেন তিনিও কল্যাণলাভ করেন। ২
সিধ্যন্ত্যুচ্চাটনাদীনি কর্ম্মাণি সকলান্যপি।
এতেন স্তুবতাং দেবীং স্তোত্রবৃন্দেন ভক্তিতঃ*।। ৩
*“স্তোত্রমাত্রেন সিধ্যতি” ইত্যপি পাঠঃ।
📌 অর্থাৎ, এই চণ্ডী-স্তোত্র দ্বারা ভক্তিপূর্বক দেবীর স্তব করিলে উচ্চাটনাদি অভিচার-কর্মসমূহ সিদ্ধ হয়। ৩
📌 অর্থাৎ, সেই ব্যক্তির সিদ্ধিলাভে মন্ত্র, ঔষধ বা অন্য কিছুও আবশ্যক নাই। মন্ত্রজপ ব্যতীত কেবল এই স্তোত্র-পাঠে তাঁহার সকল উচ্চাটনাদি সিদ্ধ হয়। ৪
সমগ্রাণ্যপি সেৎস্যন্তি লোকে শঙ্কামিমাং হরঃ।
কৃত্বা নিমন্ত্রয়ামাস সর্ব্বমেবমিদং শুভম্।। ৫
📌 অর্থাৎ, অল্পায়াসসাধ্য চণ্ডীপাঠেই সকল অভিলাষ সিদ্ধ হয় কিনা-লোকপ্রসিদ্ধ এই সন্দেহ অবগত হইয়া মহাদেব সকলকে আহ্বানপূর্বক বলিলেন যে, এই স্তোত্রই (সপ্তশতীই) পরম কল্যাণপ্রদ। ৫
📌 তাহার পর তিনি চণ্ডিকার এই স্তবটি গুপ্ত করিয়া রাখিলেন। যথাবিধি সাধনশীল ব্যক্তির ন্যায় পাঠক এই স্তোত্র (সপ্তশতী)-পাঠলব্ধ সুপুণ্যের দ্বারা দেবীকে প্রাপ্ত হন। ৬
সোহপি ক্ষেমমবাপ্নোতি সর্ব্বমেব ন সংশয়।
কৃষ্ণায়াং বা চতুর্দ্দশ্যামষ্টম্যাং বা সমাহিতঃ।।৭
দদাতি প্রতিগৃহ্ণাতি নান্যথৈষা প্রসীদতি।
ইত্থং রূপেণ কীলেন মহাদেবেন কীলিতম্।। ৮
📌 অর্থাৎ, অতএব, তিনি সকল কল্যাণ লাভ করেন, ইহাতে সংশয় নাই। যিনি কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী বা চতুর্দশীতে অনন্যচিত্ত হইয়া বিধিপূর্বক ইহা পাঠ বা শ্রবণ করেন, তাঁহার প্রতি দেবী প্রসন্না হন, অন্য প্রকারে নহে। এইরূপ কীলকের দ্বারাই মহাদেব চণ্ডীকে কীলিত (বেষ্টিত) করিয়াছেন। ৭-৮
📌 অর্থাৎ, যে ব্যক্তি কীলকস্তব পাঠ পূর্বক চণ্ডীকে কীলক-শূন্য করিয়া প্রত্যহ শুদ্ধ ও স্পষ্টভাবে চণ্ডীপাঠ করেন, তিনি পরজন্মে নিশ্চয়ই দেবীর গণ, সিদ্ধ বা গন্ধর্ব হইয়া জন্মগ্রহণ করেন। ৯
📌 অর্থাৎ, অর্থবোধসহকারে এই কীলকস্তব-পাঠান্তে চণ্ডীপাঠ করিতে হয়। এইরূপ যিনি না করেন, তাঁহার চণ্ডীপাঠের ফল নষ্ট হয়। ইহা সম্পূর্ণরূপে জানিয়াই পণ্ডিতগণ কীলক-স্তব-পাঠান্তে অর্থবোধপূর্বক চণ্ডীপাঠ করেন। ১১
📌 অর্থাৎ, যদি চণ্ডীর প্রসাদে ঐশ্বর্য, সৌভাগ্য, আরোগ্য, শত্রুনাশ এবং পরম মোক্ষলাভ হয়, তবে লোকে কেন চণ্ডীপাঠ করেন না? ১৪
চণ্ডিকাং হৃদয়েনাপি যঃ স্মরেৎ সততং নরঃ।
হৃদ্যং কামমবাপ্নোতি হৃদি দেবী সদা বসেৎ।। ১৫
📌 অর্থাৎ, যে ব্যক্তি হৃদয়ে সতত চণ্ডীকার স্মরণ করেন, তাঁহার হৃদয়ের সকল কামনা পূর্ণ হয় এবং তাঁহার হৃদয়ে দেবী সদা বিরাজ করেন। ১৫
অগ্রতোহমুং মহাদেব-কৃতং কীলকবারণম্।
নিষ্কীলঞ্চ তথা কৃত্বা পঠিতব্যং সমাহিতৈঃ।।১৬
📌 অর্থাৎ, প্রথমে মহাদেবকৃত সিদ্ধিবিঘ্ননাশক এই কীলকস্তব পাঠ দ্বারা চণ্ডী নিষ্কীলক করিয়া পরে সমাহিত চিত্তে অর্থবোধ সহকারে চণ্ডীপাঠ করিতে হয়। ১৬
[গুপ্তবতী ও দুর্গাপ্রদীপ টীকাদ্বয় অনুসারে কীলকস্তবের অনুবাদ]
কীলক—‘কীলক’ অর্থ শাপ। দেবী-মাহাত্ম্য গ্রন্থের উপর মহাদেব-কৃত শাপ আছে। এই কীলক স্তুতি সেই শাপের উদ্ধার মন্ত্র। কীলক পাঠ করে চণ্ডীপাঠ করলে মহাদেব-কৃত শাপের যেমন উদ্ধার করা হয় তেমনই পাঠকের অভীষ্টসিদ্ধি হয়। কীলক পাঠ না করে যিনি চণ্ডীপাঠ করবেন, তিনি চণ্ডীপাঠের ফল পাবেন না, পূর্ণকাম হবেন না। তাই চণ্ডীপাঠের অধিকারী হতে হলে এই কীলক পাঠ করতে হবে।
‘কীলক’ এর আর একটি অর্থ ‘চাবি’। তালাবদ্ধ ঘরে চাবি দিয়ে তালা খুলে যেমন ঘরের ভেতর প্রবেশ করা যায়, সে’রূপ গহন চণ্ডীতত্ত্বে প্রবেশ করতে হলে কীলক পাঠ দ্বারা তালা খুলতে হয়। চণ্ডী-রহস্য সাধারণের নিকট যাতে সহজে প্রকাশিত না হয়, তাই মহাদেব তা তালা দিয়ে অতি সঙ্গোপনে রাখলেন। যে ভক্ত চণ্ডী-রহস্য জানতে চায়, তাকে মহাদেবের এই তালা খুলতে হবে। কীলক-স্তবই এর চাবি। কীলক পাঠ করলেই সেই তালা খুলে যায় আর পাঠকের নিকট চণ্ডী-রহস্য প্রকাশিত হয়।
‘কীলক’ এর আর একটি অর্থ খোঁটা। যেমন, যাঁতার মধ্যস্থানে খোঁটার গোড়ায় যে সকল ছোলা বা মটর থাকে সেগুলো যাঁতার পেষণে চূর্ণ হয় না, সে’রূপ যে সকল ভক্ত ভগবানের পাদপদ্মরূপ ‘কীলক’ অবলম্বন করে থাকে, তারা সংসারের পেষণে, শোকে ও দুঃখে চূর্ণ হয়ে যায় না বরং মহামায়ার আশ্রয় লাভ হয়।
অর্গলায় যেমন বিঘ্ননাশ হয়, তেমনই কীলকে অভীষ্টসিদ্ধি হয়।
এতো ভাবগম্ভীর আলোচনার পর একটা কবিতা আমি আমার ঝুলি থেকে বের করবো ধাতস্থ হতে। সঙ্কর্ষণের লেখা
|| ত্যক্ত শবের সাতকাহন ||
ঠাণ্ডা নয় বলে এক গ্লাস জল
কী নির্দ্বিধায় মেঝেতে ফেলে দিলাম।
এদিকে জল নামছে, বন পুড়ছে…
মেয়েটিকে ত্যাজ্য করেছিলাম ছুঁতে দেয়নি বলে।
মেয়েরা আসলে কাঁচের মতো স্বচ্ছ হয়
জল কোথায় গড়িয়ে গেলো দেখা যায়না।
সব পেয়েও ছুঁতে পেলামনা…
পাওয়ার সংজ্ঞাটুকু এখানেই শেষ।
প্রেমিকারা চলে যায় যাক।
স্বোপার্জিত বিরহ অল্প করে জমাচ্ছি।
বিরহ মানেই কবিতা নয় তবে…
প্রতিটি কবিতা আসলে প্রত্যাখ্যানেরও নামান্তর।
তেষ্টায় বন পুড়ছে
এদিকে বুকের ভেতর চারিণীর অসহ্য তৃষ্ণা।
বন নাকি পৃথিবীর ফুসফুস…
আমি জ্যান্ত এদিকে তার ছ্যাঁকা লাগছে।
তুমি কী তবে
ধোঁয়াওঠা আকাশ না ছাইভরা মাটি?
মেঝের জল শুকিয়ে যাচ্ছে…
এদিকে চুম্বক সমুদ্রে জাহাজ আটকে রাখলে
দিব্যি ঈশ্বরের নাম করে চালিয়ে দাও।
সত্যিই তো, সত্যির থেকে মুখ ফিরিয়ে না ঈশ্বরকে পাওয়া যায়, না একটা সদকবিতা প্রসব করা যায়। আজ এই অবধিই থাক