সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি (পর্ব – ৫৯)

পুপুর ডায়েরি
গরমকালটা আমার ভালোই লাগে। ইন স্পাইট অফ বিইং চ্যাটচ্যাটে ইত্যাদি ইত্যাদি
ইদানীং, কারণটা খুঁজে পেলাম।
ছেলে বেলায় গরম কালটা এতো ভালো ছিলো, বিশেষ করে যাদবপুরে মামাবাড়িতে, সেই সকাল আর বিকেলের গন্ধগুলো, সাব-কনশাসে ধরা আছে।
মামাবাড়ি মানেই মজা। তাই রোদ্দুরে জ্বালা ধরালেও একটা সেন্স অফ ফান কাজ করতো।
তখন সকাল মানেই ছিলো লম্বা বারান্দা দিয়ে দৌড়ে ঠাকুর ঘরে গিয়ে উটপাখির মতন পাছু উঁচু করে মাথা ঠুকে নমো।
তারপর বারান্দা থেকে লম্বা লম্বা সিঁড়ি দিয়ে নেমে, বড়ো চৌকো উঠোনে দাঁড়িয়ে সূর্য প্রণাম ; তারপর, রাঙামাসি বা ছোটো মাসির থেকে পেস্ট চেয়ে নিয়ে , যার যার ব্রাশ হাতে, সামনের বারান্দার সিঁড়িতে বসে পা দোলাতে দোলাতে ব্রাশ করা, আর ভিতরে এসে টিউবওয়েল টিপে ঝুলে ঝুলে মুখ ধোয়ার কী অনাবিল আনন্দ, সে তোমাদের কাউকে বলে বোঝাতে পারব না।
এইসব, চারু অ্যাভিনিউর কর্নফ্লেক্স জ্যাম জেলির সঙ্গে একেবারে যায় না।
টালিগঞ্জের চার দেয়ালের ঘর ; ট্যাপের জলশুদ্ধু বাথরুমে সোপ কেস টাওয়েল, আর টাই লাগানো ইউনিফর্ম পরে গম্ভীরমুখে ইস্কুলে যাওয়ার পাশে, মামাবাড়িটা মনে হত এনিড ব্লাইটেওনের গল্পের ফেয়ারিল্যান্ড।
এটা একটা অন্য দেশ। ম্যাজিকের মতো। সবই মজার।
পুপুর নরমালের মতো শহুরে দিন নয়।