কবিতায় ঋত্বিক সেনগুপ্ত

কলকাতায় জন্ম এবং বেড়ে ওঠা ঋত্বিক সেনগুপ্ত, ছোট ভাই মৈনাকের সঙ্গে নানা জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন বাবার চাকরির সুবাদে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেক্ট ঋত্বিক এবং স্ত্রী পর্ণা বাঙালিয়ানাকে ভালোবেসে ছুঁয়ে থাকেন দিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্কেও। শৈশব আর এখনকার কাজের খাতিরে খুঁজে পাওয়া দেশের বিভিন্ন স্বাদ গন্ধ মানুষের রীতিনীতির গল্প কল্পনার তুলিতে সাজিয়ে ঠাকুমার ঝুলির গল্পের মত পরিবেশন করেন ঋত্বিক। কখনও বা কবিতায় ও ফুটে ওঠে নষ্টালজিক বাংলা, বর্তমান আর অতীতকে মিলিয়ে মিশিয়ে। নবনালন্দার ছাত্র ঋত্বিক তাঁর সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে তুলে দিয়ে যেতে চান পুত্রকন্যা তিথি ও দেবের হাতে। তিনি বলেন, পাঠকদের মতামত জানতে পারলে ভালো লাগবে।

দূষণ – নামা

ছাতের কানাচে পায়রাটা ঘাড় বাঁকিয়ে,
সূর্যের দিকে নিশ্চলভাবে তাকিয়ে।
আড়ষ্ট হয়ে গুটিয়ে রেখেছে ডানা,
হতবাক, কেন আকাশেও জরিমানা।
ছাতের মাটিতে সকলের ছেঁড়া রুটি,
কাকটা আসেনি, বায়ুদূষণের ছুটি।
অথবা হয়তো ছাই-সাদা এই ধোঁয়াশা,
উড়তে না পেরে, নিথর সঙ্গ হতাশা।
সাফাইওয়ালা, গেল রাস্তায় জল ছিটিয়ে,
কুকুরটা তবু বসেই থাকলো সিঁটিয়ে;
নির্বাক, আর ঘাড় তুলে তুলে দেখে
মানুষ কেমন বিষিয়েছে হাওয়াটাকে।
চমকিয়ে উঠে কখনো বা ওঠে ডেকে,
কাশির কোরাস সব বারান্দা থেকে।
আমার ও তো আজ হলনা সূর্যপ্রণাম,
আড়াল সূর্য, উন্নয়ন আর আকাঙ্ক্ষার-ই ইনাম।।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।