সম্পাদকীয়

বাঙালির চতুর্দশ পার্বণ হল কলকাতা বইমেলা। আর এই বইমেলা মানেই স্মৃতির পাতায় আলোকপাত। নতুন বইয়ের গন্ধ। সেই ছোট্টবেলা থেকে বইমেলায় যাচ্ছি। আজ আর মনে নেই ঠিক কবে থেকে বাবার আঙুল ছেড়ে বন্ধুদের সাথে সামিল হয়েছিলাম এই উৎসবে। কত বসন্তের কাপাস তুলো ছুঁয়েছে এই বইমেলা। আবার কখনও জুড়িয়ে যাওয়া চায়ের মত সম্পর্ক মিশে গেছে বসন্তের বাতাসে। কত ধুলো। চোখের পাতায় বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যায় ঝরা শিমুলের সঙ্গী হয়েছে। রুক্ষ মাঠেতে বসেছে তর্ক-বিতর্কের মজলিস। হঠাৎ হাওয়ার মতো ডাক দিয়ে গেছে কোন এক অচেনা গিটার বাদক। গলায় বব ডিলানের গান। আবার কখনও আকাশের তলায় দেখেছি চিত্রশিল্পীদের হাতে ক্যানভাসে ফুটে উঠেছে রং-তুলির স্বপ্ন। যার সাথে কোনদিন দেখা হওয়ার কথা ছিল না হঠাৎই তার সাথে দেখা হয়ে গেছে। যার সাথে দেখা হবার কথা ছিল চাতক চোখ তাকেই খুঁজেছে। আর এইসবের সাথে নতুন-পুরানো বইয়ের খোঁজ। এক অনন্ত তৃষ্ণা। এক অন্যরকম মাদকতা। যার নেশায় আস্ত একটা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।
এবারের সবচেয়ে মজার ঘটনা হল, আমাদের যাদের লিটল ম্যাগাজিনের টেবিল ছিল তাদের সবাইকে গিল্ড থেকে একটি করে সুকুমার রায়ের “আবোল তাবোল” বই উপহার দিয়েছে। অনেকদিন হলো,একটা শৈশব হারিয়ে গিয়েছিল। গিল্ড কর্তৃপক্ষ আবার আমাদের শৈশবটা ফিরিয়ে দিল। এ এক পরমপ্রাপ্তি।
রিতা পাল