T3 || আমি ও রবীন্দ্রনাথ || সংখ্যায় রীতা পাল

কবির দুয়ারে

“মনে কি দ্বিধা রেখে গেলে চলে
সে দিন ভরা সাঁঝে,
যেতে যেতে দুয়ার হতে
কি ভেবে ফিরালে মুখখানি”

জীবনসংগ্রামে যখনই আঘাত পাই,পূবের জানলাটার কাছে দাঁড়াই। চোখের জল বাধা মানে না।ঈশান কোণে এক খন্ড সাদা দাড়িওয়ালা মেঘ চোখে পড়ে।দীপ্ত চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কান্না থেমে যায়।এক জীবনে এই মানুষটা এতো মৃত্যুশোক, এতো যন্ত্রণা পেয়েছেন তবুও পরিপূর্ণ করে গেছেন সাহিত্য ভান্ডার। আমি তো নগন্য এক মানুষ। এইটুকু সহ্য করতে পারব না। ঘুরে দাঁড়ায়, শুরু করি জীবন যুদ্ধ ।

“বাড়ির ছাদে একলা গভীর অন্ধকারে মৃত্যুরাজ্যের কোনো—একটা চূড়ার উপরকার একটা ধ্বজপতাকা,তাহার কালো পাথরের তোরণদ্বারের উপরে আঁকপাড়া কোনো একটি অক্ষর কিম্বা একটি চিহ্ন দেখিবার জন্য আমি যেন সমস্ত রাত্রিটার উপর অন্ধের মতো দুই হাত বুলাইয়া ফিরিতাম”।
একটার পর একটা আপনজনের মৃত্যু তাঁকে ক্ষত বিক্ষত করে দিয়েছিল। হৃদয়ের রক্ত ক্ষরণ হৃদয়েই রয়ে যায়।
হাসি মুখে বরন করে নিয়েছিলেন নিয়তির সব পরিহাস।

“এই করেছ ভালো,নিঠুর হে,
এই করেছ ভালো।
এমনি করে হৃদয়ে মোর
তীব্র দহন জ্বালো”।
কবির সাহিত্য সমুদ্রের একটি অমূল্য রত্ন হল তাঁর চিঠি। আমার ভাললাগা একটি চিঠি “ছিন্নপত্র”থেকে তুলে দিলাম-
কুষ্টিয়া ৬অক্টোবর১৮৯৫
আমার দিনগুলিকে রথীর কাগজের নৌকোর মতো একটি একটি করে ভাসিয়ে দিচ্ছি। কেবল মাঝে মাঝে একটি -আধটি গান তৈরি করছি এবং শরৎকালের প্রহরগুলির মধ্যে কুন্ডলায়িত হয়ে পড়ে আছি। এই অপর্যাপ্ত জ্যোতির্ময় নীলাকাশ আমার হৃদয়ের মধ্যে অবনত হয়ে পড়েছে,আলোক রক্তের মধ্যে প্রবেশ করছে,সর্বব্যাপী স্তব্ধতা আমার বক্ষকে দুই হাতে বেষ্টন করে ধরেছে। একটি সকরুন শান্তি আমার ললাটের উপর চুম্বন করছে।
“ আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি
কৌতূহলভরে—
আজি হতে শতবর্ষ পরে”।

যতদিন এই পৃথিবী থাকবে আমাদের মনের আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে রবিঠাকুর থাকবেন।
রবীন্দ্রনাথ বাউল তত্ত্বে প্রভাবিত হয়েছিলেন।

বাউলতত্ত্বে‘ সাধনার ’মূল বিষয় হচ্ছে দেহতত্ত্ব । দেহের ভিতর যে পরম সত্ত্বার বাস,তাকে না চিনলে সিদ্ধিলাভ হয় না। রবীন্দ্রসঙ্গীতেও রূপক,প্রতীক ,উপমা,চিত্রকল্প ,ভাব ও সুর ফুটে উঠেছে। তাই বাউলের গান দেহজরিপের গান, আত্মাতত্ত্ব,আত্মদর্শনের গান।
লালন শাইয়ের গানে তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন সম্প্রীতির ধারার পরিচয়।
ফকির লালন শাইয়ের ভাবশিষ্য কুষ্টিয়ার গগন হরকরা তথা গগন চন্দ্র দাস রচিত “আমি কোথায় পাব তারে আমার মনের মানুষ যে রে”…..
এই গানটির সুর অবলম্বনে রচিত করেন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত —
“আমার সোনার বাংলা”

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।