সম্পাদকীয়

হিন্দু ধর্মালম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লোক উৎসব হল চরক পূজা। চৈত্রের শেষ দিনে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয় এবং বৈশাখের প্রথম দুই-তিন দিনব্যাপী চড়ক পূজার উৎসব চলে। হিন্দু দেবতা শিবের গাজন এই উৎসবের একটি অঙ্গ। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে মেলা বসে ও যা চরক সংক্রান্তির মেলা নামে জনশ্রুতি রয়েছে। ১৪৮৫ খ্রিস্টাব্দে সুন্দরানন্দ ঠাকুর নামের এক রাজা এই পূজা প্রথম শুরু করেন। কথিত আছে এই দিনে, শিব উপাসক বাণরাজা দ্বারকাধীশ কৃষ্ণের সঙ্গে যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত হয়ে মহাদেবের প্রীতি অর্জন করে অমরত্ব লাভের আকাঙ্ক্ষায় ভক্তি সূচক নৃত্য,গীতাদি ও নিজ গাত্র রক্ত দ্বারা শিবকে তুষ্ট করে অভীষ্ট সিদ্ধ করেন। সেই স্মৃতিতে শৈব সম্প্রদায় এই দিনে শিব প্রীতির জন্য উৎসব করে থাকেন।
কেমন ছিল পুরনো কলকাতার চড়কপার্বণ তা জেনে নেব। মহাভারতের অনুবাদকার হিসেবে বিখ্যাত কালীপ্রসন্ন সিং মহাশয়ের “হুতোম প্যাঁচার নকশা” থেকে।
“কলকাতা শহরের চারদিকে ঢাকের বাজনা শোনা যাচ্ছে। চড়কীর পিঠ সড়্ সড়্ করছে। কামারেরা বাণ, দশলকি, কাঁটা ও বঁটি প্রস্তুত করছে। সর্বাঙ্গে গয়না। পায়ে নুপুর। মাথায় জরিপ টুপি। কোমরে চন্দ্রহার। সিপাই পেড়ে ঢাকাই শাড়ি মালকোছা করে পরা। তারকেশ্বরে ছোবান গামছা হাতে, বিল্লপত্র বাঁধা সুতা গলায় যত ছুতোর, গোয়ালা, গন্ধ বেনে ও কাঁসারীর আনন্দের সীমা নাই। – “আমাদের বাবুদের বাড়ি গাজন।”
কলকাতা শহরের আমেজ শিগগিরই ফুরায় না। বারোয়ারি পূজোর প্রতিমা পূজা শেষ হলেও বারো দিন ফেলা হয় না। চড়ক ও বাসী পচা গলা ও ধসা হয়ে থাকে। সেসব বলতে গেলে পুঁথি ও ক্রমে তেতো হয়ে পড়ে। সুতরাং টাটকা চরক টাটকা টাটকা শেষ করা গেলো।”

রীতা পাল

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।