T3 || ১লা বৈশাখ || বিশেষ সংখ্যায় রাজু মণ্ডল

কোন একদিন
১|
একটা ভালো দিন আসে
তাকে নিয়ে যে কি করি
আনন্দে লাফায়
ঘোরাঘুরি করি
যার তার সঙ্গে কথা বলি
তবু তাকে যেন কোনভাবেই মানিয়ে নেওয়া যায় না
সে শুধু ফুরিয়ে যায়
ফুরিয়ে যায় আমার মত
২|
একজন প্রভু ভক্তের মতো পড়ে আছি
লেজের মত করে জীবন নাড়ছি
আর কি চায় তার
আমি তো শুধু চেয়েছি তার সেবা
আলো ভরে উঠছে আমাদের সম্পর্কের চারিদিক
প্রভু হয়ে উঠছে সম্রাট
আর আমি হয়ে উঠছি তার অনুগামী
পাশে এই ভয় পাই যে
এক ঘরে বাস করে কোন একদিন সে যেন
আমার শিরশ্ছেদ না চায়
৩|
পাড়ার সবাই ভদ্র ছেলে হিসাবেই চেনে
তাই আমি বুঝে সুঝে পা ফেলি
তবু
কখনও যদি নিষিদ্ধ বাড়ির পাশ দিয়ে যায়
মনে হয়
সেখানে একবার হাজিরা দিয়ে আসি
জানি
অন্তত সে আমাকে ফেরাবে না খালি হাতে
বেশ্যা হলো অতৃপ্ত জীবনের তৃপ্ত রং
৪|
ডোবা সহজ নয়
তাই জলের কাছে গিয়েও আমি বারবার ভেসে উঠি
বহুদিন হয়ে গেল
তুমি চলে গেছো
তবু মনে হয়
তুমি সেই হৃদয়েই আছো
কি করে মুছবো তোমায়
আমি যে তোমার নামের দুনিয়ায় ডুবে গেছি বহুদিন আগে
৫|
সূর্য্য-নেভা আকাশের নিচে আমি
কোন কোন দিন তোমাকে আলো ভেবে
মৃত্যু ছুঁয়ে ফেলি
৬|
গ্রহ নয়
নক্ষত্র নয়
মহাকাশ জ্বেলে রেখেছে অজস্র যন্ত্রণার আলো
৭|
ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর যখনই
তোমার সাথে দেখা হোক না কেন
মনে হয়
সেই তুমি আমারই আছো
অথচ এসব আমার ভ্রম
তোমার পাশ কাটিয়ে যাওয়া
অতি-সাধারণ বিষয়
তবু
মন পুষে রেখেছে এক জাত কেউটেকে
৮|
কাঁচের ভিতর
কিংবা বাইরে থাকা
প্রতিজনই ভাঙা ভাঙা টুকরো
আয়না তাকে শুধু জোড়ার চেষ্ঠা করে আজীবন
৯|
সব জল শুকিয়ে গেলে
নদীও মাটি হয়ে যায়
তখন
শূন্যে
শূন্যে
সে শুধুই হাহাকার
১০|
এতবার তোমাকে ভালোবেসেছি
তবু
তোমাকে ধরতে পারিনি কোনদিন
হাত ফাঁকা বলে
শুধু অজুহাত এঁকে রেখেছে আঙুলে আঙুলে
১১|
যতক্ষণ না পৃষ্ঠা ছিঁড়ে বেরিয়ে যাচ্ছ
ততক্ষণ বেঁচে আছো
অক্ষরে অক্ষরে
অথচ
তোমাকে মুখস্হ করে করে
নিজের মৃত্যু ডেকে আনি একদিন
১২|
যতবার শরীরের কাছে যাই
সে শুধু পাল্টে যায়
আমার কি দোষ বলো
পরিণত হতে হতে
সে শুধু বোঝা হতে শিখেছে, জীবনের কাছে