কবিতায় রত্না দাস

সৈনিক বধূর নিরুচ্চার কিছু কথা
(দৃশ্য এক)
পূর্ণিমার আলোয় ভরা জ্যোৎস্না নিশিথে
ক্রন্দসী সৈনিক বধূ একাকী বিষাদে।
কতদূরে প্রিয় তুমি, শুনতে কি পাও
আমার চাওয়াতে একটু সাড়া দাও।
লাজবন্তী আমি ভার্যা নবনী তরুণী
একান্তে জীবন কাটে অলস ধরণী।
বিবাহ বাসরে মিলেছিলো চার চোখ
তারপর থেকে তুমি দূরতম লোক।
উৎকন্ঠা বুকে চেপে হাসিকে সাজাই
নিরালা মন, তুমি বিনা ব্যাকুল সদাই।
ভারি বুটে বাজে তোমার পদধ্বনি
খালি চোখে ভাসে তোমার আগমনী।
জানিনা কবে আবার হবে যে মিলন
সুপ্ত বুকেতে রাখি সংগোপনে জীবন।
(দৃশ্য দুই)
দরজায় কারা যেন কথা বলে যায়
উদ্বেল মন চমকে পথপানে চায়।
কারা আসে ফুলে ফুলে ভরা ট্রাক নিয়ে
পতাকায় ঢাকা তুমি কেন চুপ শুয়ে !
কথা বল, কথা বল, হে প্রিয় আমার
তোমাকে ছিল যে, কত কথা শোনাবার।
একটু কি কেঁপে উঠলো তোমার ঠোঁট
আমার মনেতে জমে অনন্ত বিস্ফোট।
কাকে দেখাবো টুকরো হওয়া হৃদয়
যা ছিলো তোমার, আমার তো কিছু নয়।
নিঃশব্দে চলে গেলে নিয়ে সব খুশি
নীরবে চলে গেল আমার যত হাসি।
পরম বীর চক্র ঝোলে সরব দুখে
তাকিয়ে থাকি তার দিকে করুণ চোখে।
আমার ভাষাহীন মন তোমায় খোঁজে
জানিনা কেউ কখনো কি আমায় বোঝে!
আমি এক শোকহীন পাথর প্রতিমা
বোঝেনা কেউ সে ধূসরতার সীমা।
আমার আঁচলে ছিলো যে অমূল্য ধন
আজ সবকিছু শেষ… হলো বিসর্জন।