কবিতায় রত্না দাস

অজন্মা আগামীর দিকে
অতীতের পল ছুঁয়ে উঠে আসে ঢেউয়ের লহর
ছড়িয়ে পড়ে বালুতটে
না, তরঙ্গ বলা যায় না বরং থিতানো জঞ্জাল কিছু কোলাহল কিছু হলাহল
আবশ্যক বা অনাবশ্যক ফলাফল
চাওয়ার পরিধি পাওয়ার মেলবন্ধনে আটকে থাকে
সুখপাখি পা দোলায় মেহগনী পালঙ্কে বসে, দুখপাখি
যখন তখন ঝাপটা মারে ঘাড়ে
চেয়েছে কেউ! তবুও আসে বারেবারে
তার ঠোঁটের বঙ্কিমী ঠাঁট অনেকটা রাধা স্টাইলে জ্বালা ধরায়
মানুষকে নির্বিবাদে ভাবতে শেখায়
সে নিমিত্তের হাতে ক্রীড়নক মাত্র
সবই পুতুল নাচের ইতিকথা—
কোন সুতো কতটা নাচায়…
যার হাতে লাটাই তিনি ত্রিভুবনেশ্বর হয়ে বসে আছেন, তাকে দ্যাখা যায় না শুধু অনুভবে তিনি
আগম দিনের বার্তাবহ কী নিদান দেবেন
মনের প্রকোষ্ঠে শঙ্কা আশঙ্কার দোলায়মান এক কঠিন যন্ত্রণার আভাস
নরম খরগোশ শজারুর কাঁটা কোথায় পায়!
সারা গায়ে ফুটিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যস্ত
বোড়ের দান কে দেয়! শেষ হাসিটা
তোলা থাক তার জন্য।
পৃথিবীর আহ্নিক গতি, বার্ষিক গতি নিয়মমাফিক
অনেকটা স্কুলের রুটিন খাতা
অভ্যস্ত দাসবৃত্তিতে মনের অবনমন
সেখানেও অতীত ধ্বংসাবশেষ তার শেষ বিন্দু জিইয়ে রাখে
আগুন আঁচে হাত সেঁকতে হবে তো!
নদীমাতৃক দেশ এখন চড়া পড়া
মরা নদীর সোঁতায় স্বর্ণরেণু দূর্লভ এক
কুহেলিকা হয়ে
শুধুমাত্র ধাঁধায় পথিকেরে
ধূসর ঘোলাটে চাউনি অজন্মা ভবিষ্যৎ, সুদূর দৃষ্টিতে পরিমাপ করে
অনাগত আগামীর ডানায় যদি
এ্যালবাট্রসের বিস্তার পাওয়া যেত
যদি… যদি… যদি…
নাহলে সেই খেদোক্তি…
‘আমার সাজানো বাগান শুকিয়ে গেল…’
গুমরে গুমরে ওঠে অবচেতনে–