গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী (পর্ব – ৪৫)

নীল সবুজের লুকোচুরি

এখানে যারা রয়েছে তাদের উপস্থিতিতে মায়ের স্বীকৃতিটুকুও মনে মনে চেয়েছে এই স্বনামধন্য মেয়ে আর সে নিজেই সেই পথটা প্রশস্ত করে দিতে চায়। তাই তো ডাক্তার আনসারির পায়ে হাতদিয়ে প্রণাম করতে এতটুকুও হেজিটেট করলনা এখন। দুরে দাঁড়িয়ে আর এক মহিলা অপলক দৃষ্টিতে দেখে চলেছে দুজন ডাক্তারের একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর বিরল দৃশ্য।

যে মহান মানুষটির সান্নিধ্যে এসে একজন স্বনামধন্য শ্রদ্ধেয়া ব্যক্তিত্ব মানসিকভাবে আশ্রয় খুঁজে পায় তিনি তো সত্যিই সকলের আপনজন এবং ভাগ্যক্রমে তিনি ডাক্তার আখতারেরো আপনার জন। তার একমাত্র সন্তানের জন্মদাতা। এখনো পর্যন্ত তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে। কার্যত না হলেও কাগজে কলমে কেউ কাউকে অস্বীকার করেনি এখনো। তবুও আজ স্বামী স্ত্রী কেউ কারোর সাথে কথা বলতে পারছেনা। যেন কোনোদিন কেউ কাউকে দেখেনি! দুজনের মানসিকতা আজ যোজন দূরত্ব অতিক্রম করে গেছে। উদাসীন দৃষ্টির আড়ালে চলে গেছে যৌবনের চিরসবুজ উপবন। যে চোখের ভাষায় একদিন সহজেই ভেসে গিয়েছিল দুটি মন আজ সেখানে পরে আছে বোবা চাহনি। আবাহনের আনন্দ বা বিসর্জনের বেদনা কোনো কিছুই আর রেখাপাত করেনা এখন। দু’জন মানুষ সাময়িক চাহিদা পূরণের জন্য কিছুদিন আবেগের জোয়ারে গা ভাসিয়ে দিয়েছিল। একে অপরের প্রিয়জন হয়ে উঠেছিল। কিন্তু প্রয়োজন কখনো কখনো প্রিয়জনের সংজ্ঞা বদলে দেয়। তখন সংসার পরে থাকে পিছনে। রক্তের সম্পর্কগুলোর সাথে সময় কাটানো একটা অভ্যেসে হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু জীবন ছুটে চলে বৃহত্তরের পথে এবং মহৎতরের সাধনায়। প্রত্যেকেই নিজের ভালোলাগার এবং ভালোবাসার কাজের মধ্যে খুঁজে পায় মানসিক আনন্দ। এই অনাবিল আনন্দই হল আত্ম সাধনা, মানসিক মুক্তি। এই মানসিক মুক্তিই তার সবার অন্তরের একমাত্র সাধনার ধন। “বাঁধনবিহীন সেই যে বাঁধন” – সে তো কর্তব্যের বাঁধন। ভালো লাগার কর্মক্ষেত্রে সেটাই প্রাণের বাঁধন। সেখানে যে বাঁধা পরেছে সেই অনন্তের পথের সন্ধান পেয়েছে। অমৃতকুম্ভ পূর্ণ হয়েছে তার। এ জগতে সে অমরত্ব লাভ করেছে। অন্তত ডাক্তার আনসারির ক্ষেত্রে বর্তমানে এটাই সত্যি হয়ে।
ডাক্তার আখতারকে এদিকে এগিয়ে আসতে দেখে মিঠি ভেতরে চলে যায়।

আসছি পরের পর্বে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।