T3 || শক্তি চট্টোপাধ্যায় || স্মরণে রীতা চক্রবর্তী

মনের আয়নায় লেখা নাম

কত যুগ পার হয়ে গেছে তারপর।
কারো নাম শুনে আজকাল আর মনে আলোড়ন জাগেনা।
আচ্ছা, এখন আশেপাশে এমন কেউ আছে কি যার নাম শুনলেই মনে শ্রদ্ধা জাগে! মনের গভীরে জেগেওঠে আলোর রোশনাই।

রক্তে তুফান তোলে এমন কোনো নাম অবশিষ্ট আছে কি? অথবা ভালোবাসার আবির জড়িত গালে ছড়িয়ে পড়ে লালিমা!
যে নামে মনের আঙিনায় ফাগুনের দোলা লাগে! কৃষ্ণচূড়ার আবীররঙে রঙিনমন অকারণে উতলা হয়!

আগলখোলা দুয়ার ধরে পথচেয়ে দিন কেটে যায়, হাঁসুলির বাঁক পেড়িয়ে যার আসার আশায় চোখ চেয়ে রয়, আছে কি এমন কোন নাম? এমন কোনো নাম যেখানে অতসীমামির হলুদপোড়াতে সরীসৃপ আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে সমাজকে!

আছে গো আছে, সে নাম আছে।
যে নাম শুনলেই গলা বেয়ে ওঠে গান সেই চিরসবুজ নাম জমিদার বাড়ির ছোটবৌয়ের
নাকছাবির পান্নাফুল হয়ে জ্বলছে আজও।
যে নামে অরণ্যের হাতছানি, সেই রেলের লাইনের ধারে গুলঞ্চলতার ঝোপ চোখেপড়ে, সে নাম ইছামতীর গভীরে আজও রয়েছে।

যে নাম কলকাতা শহরের ট্রামলাইনে কোনো এক অসতর্ক মুহূর্তে রক্তে লেখা হল, সে নাম রয়েছে শঙ্খচিলের ডানায়, রূপশালী ধানের শীষে। যে নামে দেবানন্দপুর আর ভাগলপুর এক হয়ে খিদিরপুরের সাড়ে বত্রিশভাজায় মিশে যায়, রেঙ্গুনের অলিগলি ঘুরে রাজলক্ষীকে কলমে বন্দী করে যে নাম, সে নাম রয়েছে ইন্দ্রনাথের সঙ্গী হয়ে রাতের গঙ্গার বহমানতায়।

যে নাম একটা দেশের পরাধীনতার লোহার শিকল ভাঙার স্পর্ধা দেখায় সে নাম রয়েছে খুকু আর কাঠবিড়লির ভালোবাসায়।
যে নামে একটা পরাধীন জাতির ঘুম ভাঙে, যে নাম “জয়হিন্দ্ “এর অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত করে একটা জাতিকে, সে নাম রয়েছে তোমার আমার মনের আয়নায়।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।