গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী (পর্ব – ১৫)

নীল সবুজের লুকোচুরি

–” sorry, I have no interest about any others personal business. In fact I don’t want to know about your personal life.”অভিমানী সুমি এখনও মুখ ফিরিয়ে থাকে আয়ানের দিক থেকে।
–“তাই বলে আমাকে একবার বলারো দরকার মনে করলি না! দূর করে দিলি আমাকে জীবন থেকে!” আহত স্বরে বলে আয়ান।

— একটু অন্যমনস্ক হয়ে যায় সুমি। বলে ” এমনিতেই মিঠিকে রেখে যেতে হত বলে বাড়িতে যাওয়া কমে গিয়েছিল। আর তুই ফিরে এসে যখন ঘটনার ঘনঘটা আপন মনে বলে গেলি তখন থেকেই মুছে গিয়েছিল আমার পরিচিত জীবনের সব স্মৃতি। আমার বলতে তখন শুধু মিঠিই ছিল। ওকে যদি কেউ কেড়ে নেয় তবে আমার অস্তিত্বই যে হারিয়ে যেত। তাই শুধু ওকে আমার করে রাখতে আমি সব ছেড়ে হারিয়ে গিয়েছিলাম অজ্ঞাতবাসে। সেখানে মাদার ছিলেন আমার ভগবান হয়ে। উনি আমার ওই একরত্তি মেয়েকে নিজের করে নিয়ে ভালোবাসার বাঁধনে বেঁধে রেখেছেন আমাদের। ওঁর আশীর্বাদের ঋণে আমি চির ঋণী। অনন্তকাল ধরে ওঁর এই ঋণ আমার হয়ে থাক। সংসারের মায়াবী সাগরে যখনই দুর্যোগের কালো ছায়া ঘনিয়ে এসেছে তখনই পরম মমতায় দুহাতে আগলে রেখে পার করে দিয়েছে আমার জীবনের দুরন্ত তুফান।”
চোখের জল মুছে মুখে একটু হাসি এনে বলে,
–” এই হল ডঃ আয়ুস্মিতা মৈত্র, দেশের দশ জন সেরা হার্ট সার্জেনের মধ্যে একজন। কিছুদিন আগেই বিদেশ থেকে স্পেশালিস্ট ডিগ্রি নিয়ে এসেছে। আমার মেয়ে। আমার পৃথিবী। আমার ভালোবাসার একমাত্র মিষ্টি স্মৃতি, মিঠি।
দেশের মানুষের সেবায় সদা সর্বদা নিয়োজিত। স্বনামধন্য ডাক্তার আয়ান আনসারি ওর জন্মের কারণ। শুধু সেটা না জানানো যদি মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ হয়ে থাকে তবে আমি আমার মেয়ের কাছে অপরাধী, এতদিন ওর বাবার নাম ওর কাছে গোপন করেছি বলে।”

আসছি পরের পর্বে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।