গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী (পর্ব – ২২)

নীল সবুজের লুকোচুরি
সত্যিই মায়েরা সাধারণতঃ মেয়েদের “পিরিয়ডস্” ব্যাপারটা নিয়ে কতো রাখঢাক করে। কিন্তু ওর মা’যে কতটা খুশি হয়েছিল সেটা মিঠি বুঝতে পেরেছিল মায়ের সেই বিশাল আয়োজন দেখে। ওর নারীত্বকে সম্মান জানাতে মায়ের জুড়ি নেই। মেয়ে বড় হয়ে গেছে এই আনন্দ সংবাদ জানানো হয়েছে সবাইকে। এটা কোনো লজ্জার বিষয় নয় কিম্বা গোপনীয় বিষয়ও নয় বরং সৃজনশীল এই পৃথিবীতে এক বালিকা প্রকৃতিসম্ভবা হয়েছে এটা অত্যন্ত গর্বের বিষয়, অন্তত ওর মায়ের কাছে।
—
মিঠি মায়ের কাছে শুনেছে যে মরুভূমির অধিবাসীরা মেয়েদের প্রথম যৌবনকে সেলিব্রেট করে গানা-বাজানা, খানা পিনার সাথে। মরুভূমিতে যেখানে জল থাকে সেখানে যেমন প্রানের স্পন্দন স্বরূপ মরুদ্যান সৃষ্টি হয় তেমনি ‘বানজারা’ দের জীবন মরুভূমিতে মেয়ের বড় হয়ে ওঠা হল সমাজের কাছে প্রকৃতির আশীর্বাদ। ভবিষ্যতের একজন নারী যে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বংশধরের জন্ম দেবে সে যে স্বয়ং মাতৃশক্তি; দেবী দুর্গার প্রতিনিধি। তাই তো মেয়ে বড় হওয়ার সুখবরে সামাজিক সেলিব্রেশন হয়। খুশির হাওয়ার স্নিগ্ধ পরশে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় মরুজীবন।
মায়ের কাছেও মরুভূমির এই আনন্দ অনুষ্ঠান খুবই বরণীয় বলেই মনে হয়। সত্যিই তো প্রকৃতির বুকে ফসলের আনন্দ আর কন্যার নারী হয়ে ওঠার আনন্দ যে একই।তাইতো মা ওর পছন্দের জাফরান রংয়ের একটা শিফন জর্জেটও দিয়েছিল স্পেশাল গিফট হিসেবে সেবছর জন্মদিনে। কনট্রাস্ট টপস্ হিসেবে ছিল ব্ল্যাকগোল্ডেন স্ট্রাইপের ফুল স্লিভস্। মিঠির খুব পছন্দের শাড়ি। ওটা ছুঁয়ে থাকলেই ছোটবেলার সেই মিষ্টিমধুর দিনগুলি মনের গভীরে কথা বলে ওঠে। সেই স্মৃতিগুলোকে ও অনুভব করতে পারে মনের কোণে কোণে। স্মৃতির সুরভিতে ভরে থাকা এক অমূল্য সম্পদ ।
মিঠি কতক্ষণ যে এলবামটা বুকে জড়িয়ে ধরে বসে ছিল সেটা নিজেও জানে না। মাদারের ডাকে ও সম্বিত ফিরে পায়। মনে পড়ে ও একটা বিশেষ ছবি খুঁজে দেখতে এসেছিল। আরো মনে পড়ে ডঃ আনসারি আজ ওর বাড়ির অতিথি!
আসছি পরের পর্বে