গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী (পর্ব – ৪৮)

নীল সবুজের লুকোচুরি
আমার জীবনের সেরা মানুষ আমার মা। তাকে ছাড়া আমি আর কিছুই চাইনা। আপনাকে আমি ভীষণ শ্রদ্ধা করি। কিন্তু মা ছাড়া আমার বলতে আর কেউ নেই। আপনি আমাকে মায়ের কাছ থেকে দূরে যেতে বলবেন না প্লিজ। আজ আপনার সামনে দাঁড়িয়ে এত কথা বলার ধৃষ্টতা মার্জনা করবেন।”
পূবালী আজ এল বুঝি দখিন হাওয়ার বেশে।
লাগলো মাতন ফুলের বনে দুর নীল আকাশে।
শীতের চাদর জড়িয়ে থাকা ভোরের নীহারকনা।
সবুজ সতেজ সাতরঙে তার জীবন আশীষ ধন্যা।
সুমিতা এতক্ষণ একদৃষ্টিতে মেয়ের দিকে তাকিয়ে ছিল।
মনে মনে ভাবছিল তার ছোট্ট একরত্তি মেয়েটা কবে এত বড় হয়ে গেল যে নিজের মনের কথা অকপটে সবার সামনে দৃঢ়তার সাথে জানিয়ে দিতে একটুও দ্বিধা বোধ করলনা! উপস্থিত সকলেই হয়ত মিঠির মিষ্টিমধুর স্বরে এতো কঠিন কথা শুনে কিছুক্ষণের জন্য ভাষা হারিয়ে ফেলেছিল। তাই সহসা কেউ কিছুই বলতে পারলনা। সুমিতা ইশারায় মেয়েকে কাছে ডেকে শক্ত করে হাতটা ধরে রইল। আনন্দে তার চোখের জল বাঁধ ভেঙে বয়ে চলেছে। মিঠি মা’কে জড়িয়ে ধরল। মিঠির আজ কেমন যেন বুকের ভেতরটা হু হু করছে। মাদার মরিয়াম এগিয়ে এসে মিঠির মাথায় হাত রাখলেন। ডাক্তার সাহানা অনেকক্ষণ থেকে কিছু বলতে চাইছেন। কিন্তু বলতে পারছেন না, চুপ করে থাকছেন। তখন ডাক্তার আয়ান আনসারি নিজের ঐশ্বরিক স্বরে বলে উঠলেন, “সত্যিই তো! আমি তো এভাবে একেবারেই ভাবিনি। আমার হয়তো সত্যিই বিরাট একটা ভুল হয়ে গেছে। বিষয়টা তোমাকেই আগে জানানো উচিত ছিল। আমি শুধু স্বার্থপরের মতো নিজের কথাই ভেবেছি। তোমাদের দিকটা আমার আগেই ভেবে দেখা উচিত ছিল। জানোতো, আজ তোমাদের সকলের সামনে দাঁড়িয়ে আমার মনে হচ্ছে জীবনে যে কথাটা সবার আগে সাহানাকে জানানো উচিত ছিল আমি সেটাও জানাইনি। সেদিন নিজের নিঃস্ব জীবনে কাউকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চেয়েছি। আমার ব্যর্থতার সীমা নেই। নিজের সুখের গল্প শুনিয়ে আমার প্রাক্তন ভালোবাসার সেই মানবীর মন ভেঙে দিয়েছি। তারপর সে যখন এই পৃথিবীর জনসমুদ্রে হারিয়ে গেল তখন তাকে খুঁজতে গেলাম। আমি যে সংসারের সব থেকে অযোগ্য মানুষ সেটা আজ আমার কাছে খুবই পরিষ্কার হয়ে গেছে। আমার হারিয়ে যাওয়া দিনগুলি আর তো ফিরে পাবোনা। সাময়িক ভাবে আমি কেমনকরে আবার নতুন করে সংসার সুখের স্বপ্ন দেখলাম সেটা ভাবতেই অবাক লাগছে। তবে আজ সবার সামনে একটা সত্যিকে মনপ্রাণ দিয়ে স্বীকার করে নিতে চাই। এতে তোমরা যদি আমাকে স্বার্থপর ভাবো তবে তা ভাবতেই পার। সাহানার কাছে আজ আমি সবার আগে ক্ষমা চাইছি। জানিনা এখন আর এসব কথার কোনো মানে আছে কি না! তবু আমাকে আজ বলতেই হবে।” ডাক্তার সাহানার কাছে এগিয়ে গিয়ে হাত জোর করে বলতে শুরু করলেন” তোমার সাথে সম্পর্ক তৈরি করার আগে আমার বলা উচিত ছিল যে তোমাকে ছোঁয়ার আগে আমি আর একজন মহিলাকে ভালোবেসেছি। তার সাথে আমার সবরকম সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তবে সেদিন যে কথা বলা হয়নি আজ সবার সামনে সেটা স্বীকার করছি। ডাক্তার সুমিতা মৈত্র যে এখন তোমাদের চিকিৎসাধীন, সেই আমার প্রথম ভালবাসা।আর সুমিতার এই মেয়ে, তোমরা যাকে ডাক্তার আয়ুস্মিতা মৈত্র বলে চেনো, সে আমাদের ভালোবাসার মিষ্টি উপহার।
আসছি পরের পর্বে