গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী

সফর
সাবে মাত্র সফর শেষ হল কিন্তু আমি এতটুকুও ক্লান্ত হয়ে পরিনি। আজ আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর রেলযাত্রা সম্পন্ন হল।
মনেপরছে এক সপ্তাহ আগের (৩/৬/২০২৩) “সামার স্পেশাল” ট্রেনের ক্লান্তি ভরা দুঃখময় সফরের কথা।
তিন জুন রাতে ট্রেন ছাড়ার সময় থেকেই দেরিতে চলা শুরু হয়েছিল। পরদিন যখন নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে পৌঁছেছিল তখন প্রায় সাড়ে চারঘন্টা লেট। যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকছে। ফার্স্ট ক্লাসে চা- জলটুকুও নেই। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছিল সেদিন। আজ যখন
নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে এসে “বন্দে ভারত”
ট্রেনে পা রাখলাম তখন যেন মনটা শান্ত হল। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ট্রেনটা দেখে মন ভরে গেল।
বেলা তিনটে বেজে পাঁচ মিনিটে ছেড়ে প্রথমে বরসই, তারপর মালদা টাউন, তৃতীয় বোলপুর শান্তিনিকেতন এবং শেষে হাওড়া, মোট চারটে স্টেশনে স্টপেজ রয়েছে। সাড়ে সাতঘন্টার এই সফরে ট্রেন ছাড়ার পর চা সহ নাস্তা এবং রাতের ডিনারের ব্যবস্থা রয়েছে। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় শীতাতপনিয়ন্ত্রিত এই গাড়ি স্টেশন ছাড়ার আগে এবং পরবর্তী স্টেশনের নাম মেট্রোর মতো এনাউন্স হচ্ছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল ঝাঁ চকচকে টয়েলেট।এর ইনটিয়র সিস্টেম একদম প্লেনের মতো।
“বন্দে ভারত” হল বর্তমান ভারতীয় রেলের সুন্দর সুবিন্যস্ত যাত্রী পরিষেবার উদাহরণ।
রাত ১০.৩৫ এ হাওড়া স্টেশনে নেমে মনে হল ভারতীয় রেলে এক নতুন যুগের সূচনা হল।