গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী (পর্ব – ৫০)

নীল সবুজের লুকোচুরি

প্রতিটা সম্পর্কের গভীরতা চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি। ভালো লাগছে এখানকার মানুষের জীবন যাপনের ধ্যান ধারনা। আর সেই কারণেই আপনার এইদেশে থাকার সিদ্ধান্তকে আমি সম্মান করছি।
রইলো পরে আমাদের কথা। সেটাতো…সাহানা ম্যাডাম কিছু ইশারা করতেই কথা বলতে বলতে আরিয়ান চুপ করে যায়। ম্যাডামের দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকেন আনসারি স্যার।

তুমি ধরণীর প্রতিবিম্ব।
পরের জন্যে যাপন তোমার,
পরের ঘর ই ঘর।
নিজের যদি থাকে কিছু,
নিজেই শুধু জানবে তাকে।
কখনো বলোনা যেন
নিজেই নিজের কানে কানে!
সবাই শুধু খুঁজবে তোমার
হঠাৎ এমন কথার মানে।
জগৎ জুড়ে সবাই আপন
রয়েছে হাত বাড়িয়ে।
ভরে দিতে তাদের দুহাত,
নিজেকে যেও ছাড়িয়ে।
দুঃখ টুকু লুকিয়ে রেখে,
সঙ্গোপনে কান্না ঢেকে,
বিলিয়ে দিতে হবেই জেনো
তোমার চরাচর।
নইলে প্রিয়জনেরা দুষবে
তোমায়, আপন হবে পর।

“থাক! এতো কথা বলার কি আছে? পৃথিবীতে সব মানুষের একটা স্বাধীন সত্ত্বা আছে। সকলে নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী চলতে বাধ্য হয়। পরিবার পরিজনের একটা প্রভাব আমাদের সবার জীবনে আছে। তাই তো পৃথিবীর সবারই চিন্তা চেতনা মন বুদ্ধি সব কিছু আলাদা। যদিও আমরা কখনো বুঝতে পারি না তবুও পরিবারের ঐতিহ্য সবার মধ্যেই রয়েছে। যেমন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় ডাক্তারের বাড়ির বেশিরভাগ ছেলেমেয়েই ডাক্তার। তেমনই ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষাব্রতী, গাইয়ে , নর্তকী, অভিনয় জগতের লোকজন – এককথায় বলতে গেলে বলতে হয় ছেলেমেয়েরা বাবা মা’র পথ ধরেই এগিয়ে যায়। সবসময় যে পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে তাতো নয়। তাই তো আমরা সময় সাথে মানিয়ে চলতে বাধ্য হই। জীবনের তাগিদে প্রয়োজন মতো আপন – পরের সংজ্ঞা নির্ধারিত হয়। রক্তের সম্পর্ক যেমন অস্বীকার করা যায় না তেমনি সবসময় যে মানুষগুলো পাশে থাকে তাদের সাথে কোনও সম্পর্ক না থাকলেও মনের সম্পর্ক অস্বীকার করা যায় না।
তাই আমি ওঁর বক্তব্যের কোনো ক্ল্যারিফিকেশন চাইনা।
আর তুমিও সেটা করতে পারোনা। কারণ উনি তোমার বাবা। যতটা সম্ভব হয়েছে উনি তোমার জন্য করতে চেষ্টা করেছেন। আমরা এদেশে থাকলে উনি সব দায়িত্ব বহন করতেন এটা আমি বিশ্বাস করি। কিন্তু আমি তো নিজের স্বাধীনতা বিসর্জন দিতে পারিনি। ওঁর সাথে এখন এসে থাকতে চাইনি। ওনার দুঃখ সুখের সঙ্গী হয়ে ওঠা হয়নি আমার। তাই উনি যদি স্বাধীন ভাবে থাকতে চান তাহলে আমারও আপত্তির কোনো কারণ থাকতে পারে না। আমাদের সাথে থাকতে হলে ওনাকে দেশান্তরী হতে হতো। তখন তো দেশের সেবা করতে পারতেন না। অবশ্য এটাকেই দেশভক্তির একমাত্র কারণ বলা যাবে কিনা সে বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে।”
ডাক্তার সাহানার কথা শুনে অস্বস্তি বোধ করছেন উপস্থিত সকলেই। তবু পরিস্থিতির জটিলতা কাটাতে চুপ করে থাকাটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। আরিয়ান তার মায়ের এই ধরনের আচরণ দেখে হতবাক । নিজের চোখে
মায়ের এমন ব্যবহার না দেখলে বিশ্বাস করতেই পারত না। এগিয়ে গিয়ে মায়ের হাত ধরে সেখান থেকে চলে যায়।

আসছি পরের পর্বে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।