গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী (পর্ব – ৭)

নীল সবুজের লুকোচুরি
তারপর কোথা থেকে কি হয়ে গেছে , কখন রাত গভীর হয়ে গেছে নিজেরাও বুঝতে পারেনি। সেই প্রথম সববাঁধা সরিয়ে দুজনে সম্পূর্ণভাবে একে অপরের হয়েগেছে।
গ্রীষ্মের খর দহনের পর প্রথম বর্ষার ধারাজলে স্নাত কম্পিতপুলকে এক হয়ে যায় দুটো শরীর।
এরপর বাড়িতে যখনই সুমিতার বিয়ের কথা উঠেছে , সুমিতা জানিয়ে দিয়েছে যে ও যাকে ভালোবাসে তাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারবেনা।এজন্য ওকে
মায়ের অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবু কাকে ভালোবাসে সেটা বলতে পারেনি। শুধু বলেছে,যদি কখনও বলার মতো সময় আসে সেদিন সবার আগে মা’কেই বলবে আর দুজনে একসাথে মায়ের পায়ে লুটিয়ে পরে আশীর্বাদ নেবে।
ভাবনার সাগরে এমন ডুবেগেছে যে ট্রেন কখন প্লাটফর্মে ঢুকেছে বুঝতেই পারেনি সুমিতা। এখন ট্রেনটা ছেড়ে যাচ্ছে।
“আয়ান কোথায়?
দেখতে পাচ্ছি না তো?
তবে কি এই ট্রেনে আসেনি?
কিন্তু বলেছিল তো এই ট্রেনে ফিরবে।”
মনের মধ্যে ভাবনাগুলো অস্থির করে তুলেছে আর চোখ ওই দুরে ভিড়ের দিকে স্থির হয়ে আছে।
হঠাৎ মনেহল দুর থেকে কেউ হাত তুলল। ভালোকরে তাকিয়ে দেখে আয়ান একদম ওর সামনা সামনি এগিয়ে আসছে।সামনে এসে সুমিতার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল, “জানতাম, তুই আসবি। আমিতো প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে তোকেই খুঁজছিলাম।”
সুমিতা যেন হঠাৎ করে কথা বলতে ভুলে গেছে, বড় বড় চোখ করে আয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে। কি সুন্দর লাগছে আয়ানকে দেখতে! ঠিক যেন স্বপ্নদেখা পুরুষ!
আয়ান সুমিতার হাতটা ধরে জোরে ঝাঁকুনি দিয়ে বলল, “কি রে, কি হল তোর? কথা বলছিস না কেন?”
–” কই! কিছু নাতো!”
—তবে ওরকম হাঁ করে তাকিয়ে আছিস কেন? কি অত ভাবছিস?
— কিছুই না।
—-চল, বাড়ি যাবি তো!
—হ্যাঁ, চল, আমি গাড়ি নিয়ে এসেছি। যেতে যেতে কথা হবে।
গাড়িতে দুজনেই পুরনো দিনের টুকরো টুকরো কথা একে অপরকে মনে করিয়ে দিচ্ছিল। গাড়ি প্রথমে সুমিতাদের বাড়িতেই ঢুকল।
আয়ান হাসতে হাসতে গিয়ে সুমিতার মা’কে প্রণাম করে জিজ্ঞেস করল, “কেমন আছ কাকিমা? কতদিন পর তোমাদের দেখছি।
কাকাবাবুর শরীর ঠিক আছে তো?”.. বলতে বলতে সুমিতার বাবাকে গিয়ে প্রণাম করল।
–“ওমা, তুই তো একটুও পাল্টাসনি রে, সেই আগের মতোই আছিস দেখছি। এমনিই থাকিস সব সময়” _ বলে ওঠে সুমিতার মা। “কত বছর পরে এলি, একটু মিষ্টি মুখ করে যা।”
” আজ না, আর একদিন হবে কাকিমা। বাড়িতে সবাই অপেক্ষা করছে। একবার উঠোনে পা’ রাখলে তো চটকরে আর বেড়োতে পারবনা। তাই ভাবলাম তোমাদের সাথে একবারে দেখাটা করেই যাই। এবার আমি আসি। তবে হসপিটালে জয়েন করার আগে অবশ্যই একদিন তোমার কাছে খেতে আসব।” _” আচ্ছা, তাই আসিস বাবা।”
আসছি পরের পর্বে……..