গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী (পর্ব – ৩১)

নীল সবুজের লুকোচুরি

মিঠির ভালো লাগার আর একটা কারণ হল ওর মা। তিনিও আছেন ওদের সাথে মানবসেবার এই মহান যজ্ঞে। দু’ এক দিনের মধ্যে ওর “সুপার” স্যারও চলে আসবেন। যদিও মিঠি এখন জানে উনি ওর বাবা কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই কাঙ্খিত শব্দটা স্বরে – সুরে বাতাসে ভাসাতে পারেনি। তবুও উনি কাছে থাকলে তো একটা ভালো লাগা থেকেই যায়। তখন কিন্তু বেশ একটা অন্যরকম ভালোলাগা মিশে থাকে মিঠির কাজের মধ্যে।

আজ আশ্রমের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাও খুব ব্যস্ত হয়ে রয়েছে সকাল থেকে। ডাক্তার দেশিকানের পিছু পিছু ছুটে চলেছে তারাও। অতিথি বরণের ফুলের তোড়া তৈরি করা, লাল চন্দনের বাটি সাজানো, কপালে ফোঁটা পরানোর জন্য গাঁদা ফুল সাজিয়ে রাখা – এসবের দায়িত্ব আজ ছোটদের।
স্টেজের দেয়াল সাজানো হয়েছে তাদের আঁকা ছবি দিয়ে।
অতিথিদের বসতে দেবার জন্য টেবিল চেয়ার নিয়ে গিয়ে রেখেছে। কভার দিয়ে ঢেকে সেগুলোকে সুন্দর করে সাজিয়েছে। ফুলদানিতে মানানসই ফুল রেখে টেবিল সাজানো হয়েছে।

এমনিতেই আশ্রমের ছোটদের ক্যাম্পের আশেপাশে থাকতে হচ্ছে। কখনও কারো কিছু প্রয়োজন হলে ওরা একদম “রামচন্দ্রের কাঠবেড়ালি সেনা”র মতো যত্ন সহকারে খুব তাড়াতাড়ি সে কাজটা করে ফেলছে। প্রতিটা কাজে ওদের আগ্রহ দেখে খুব ভালো লাগে। ছোটোবেলা থেকে বিভিন্ন ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা ওদের জ্ঞানের পরিধি বাড়িয়ে তোলে। যে কোন ধরনের কাজ করার ফলে একদিকে যেমন কর্ম দক্ষতা বাড়ে অন্য দিকে সেই বিষয় সম্বন্ধে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা লাভ করার ফলে বিষয়টির শিক্ষা নির্ভুল হয়। আসলে আশ্রমের নিয়ম অনুসারে ছোট বড় সবাইকেই সব রকমের কাজে যুক্ত থাকতে হয়। এরফলেই বিভিন্ন জনের বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি আগ্রহ জন্মায় এবং ওই বিষয়ে ক্রমশ দক্ষতা অর্জন করে। “হাতে কলমে” যে প্রত্যক্ষ জ্ঞান লাভ করা যায় সেটা জীবিকা নির্বাচনের সহায়ক হয়ে ওঠে।

এরমধ্যেই দেশিকান স্যারের অতিথি উপস্থিত হয়েছেন। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা অতিথিকে বরণ করে নিচ্ছে। মিঠি যদিও পেশেন্ট নিয়ে খুবই ব্যস্ত তবুও মাইকের ঘোষণা ওর কানে পৌঁছে যাচ্ছে ঠিকই। মিঠি বুঝতে পারে অতিথিরা মাদারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকার সেরে কিছুক্ষণের মধ্যেই এই ক্যম্পে চলে আসবেন।

আসছি পরের পর্বে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।