সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে রঞ্জন চক্রবর্তী (পর্ব – ৬)

উপন্যাসের বহুমাত্রিক রূপ

বাংলা সাহিত্যে ঐতিহাসিক উপন্যাস রচনার ক্ষেত্রে স্কটের প্রচুর প্রভাব ছিল এবং তখনকার সাহিত্যিকরা স্কটের রচনা থেকে ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখার প্রেরণা পেয়েছিলেন।বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দুর্গেশনন্দিনী’ (১৮৬৫), ‘রাজসিংহ’ (১৮৭৭) বাংলা ভাষায় রচিত অন্যতম সেরা ঐতিহাসিক উপন্যাস। তিনি নিজেই বলেছেন রাজসিংহ তাঁর একমাত্র যথার্থ ঐতিহাসিক উপন্যাস। এর খুব কাছাকাছিই থাকবে রমেশচন্দ্র দত্তের দুটি রচনা –‘মহারাষ্ট্র জীবন প্রভাত’ (১৮৭৮) এবং ‘রাজপুত জীবন সন্ধ্যা’ (১৮৭৯)।রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘ধর্মপাল’ (১৩১২ বঙ্গাব্দ) ও ‘ময়ুখ’ (১৩২২ বঙ্গাব্দ) উপন্যাসদু’টিরও যথেষ্ট সাহিত্যমূল্য আছে।
কাব্যধর্মী উপন্যাসের মধ্যে ঊনবিংশ শতাব্দীর ইংরেজ ঔপন্যাসিক Thomas Hardy এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর রাশিয়ার লেখক Ivan Turgenev রচিত কয়েকটি উপন্যাসকে প্রকৃত অর্থে কাব্যধর্মী বলা চলে। রবীন্দ্রনাথের ‘শেষের কবিতা’ সর্বোচ্চ স্তরের বাংলা কাব্যধর্মী উপন্যাস। পাশাপাশি বুদ্ধদেব বসুর ‘রডোডেনড্রনগুচ্ছ’ (১৯৩৪), ‘তিথিডোর’ (১৯৪৯) এবং ‘নির্জন স্বাক্ষর’ (১৯৫১) রচনা তিনটিও সার্থকতা লাভ করেছে। এছাড়া অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তর ‘ঊর্ণনাভ’ (১৯৩৩), ‘আসমুদ্র’ (১৯৩৪), এবং ‘প্রচ্ছদপট’ (১৯৩৪) উচ্চমানের রচনা।
আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসের একটা বড় বৈশিষ্ট্য হল প্রতিটি চরিত্রের মুখের কথার সূত্র ধরেঅন্য চরিত্রগুলির পরিচয় মেলে। এই শ্রেণীর উপন্যাসের দু’টি রূপ। প্রথম রূপে লেখক খানিকটা আত্মজীবনীর ধাঁচে প্রধান চরিত্রের প্রথম পুরুষের উক্তিতে কাহিনীকে পাঠকের সামনে উপস্থাপন করেন। এর উদাহরণ হল Daniel Defoe রচিত ‘Robinson Crusoe’ (১৭১৯), Smollet-এর ‘Roderick Random’ (১৭৪৮), Oliver Goldsmith-এর ‘Vicar of Wakefield’ (১৭৬৬)। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘ইন্দিরা’ বাংলা ভাষায় রচিত আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসের উদাহরণ।

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!