গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী (পর্ব – ১২)

নীল সবুজের লুকোচুরি
এই সেই ম্যজিক লেডি যার ছোঁয়ায় সবকিছু সুন্দর হয়ে যায়। ইনি আমার মা, ডাক্তার সুমিতা মৈত্র।”
আয়ান অবাক চোখে সুমিতার দিকে তাকিয়ে থাকে।
মিঠি এবার একদৃষ্টিতে ডাক্তার আনসারির দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে, “স্যার, আপনি চেনেন আমার মাকে?”
মাদার মারিয়া সামনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন।
সুমিতা কি করবে বুঝতে পারছেনা।
ডাক্তার আনসারির গলা থেকে কোনো আওয়াজ বেরোচ্ছে না। শুধু মাথা নেড়ে বোঝালেন যে উনি ডাক্তার মৈত্রকে চেনেন।
মিঠি আবার প্রশ্ন করে, “স্যার, আপনি কি আমার বাবাকে দেখেছেন?”
আয়ান বড় বড় চোখ তুলে একবার সুমিতাকে দেখে নেয়।কিছুটা সময় নিয়ে মিঠির দিকে তাকিয়ে থেকে নিজেদের আত্মিক সম্পর্ককে স্বীকৃতি দেবে বলে ঠিক করে নেয়।
তারপর নিজের অপার্থিব সমাহিত কন্ঠস্বরে বলেন,
“yes darling, he is very familiar to me and I think you also know him. If not then you may meet him now. Rest depends on your mom.”
হঠাৎই এমন জটিল পরিস্থিতির ধাক্কায় সুমিতা অসহায়ভাবে আয়ানের দিকে তাকিয়ে থাকে।
মাদার এগিয়ে আসেন ব্যাপারটাকে সহজ করতে, মিঠির মাথায় হাত রেখে বলেন…
— “আমি জানি তুমি ছোটবেলা থেকেই এই একটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে বড়ো হয়েছ। যদিও কোনোদিন মুখ ফুটে জানতে চাওনি। তবুও আমি তোমার মনের কথা চোখে ফুটে উঠতে দেখেছি। সবসময় মাকে দেখেছ কিন্তু বাবাকে দেখতে পাওনি। এমনকি কখনও তোমার মায়ের কাছে তাঁর নাম পর্যন্ত শোনোনি। তাই বাবার সম্বন্ধে জানতে চাওয়ার তোমার যে আগ্রহ তা খুব স্বাভাবিক।
হয়তো ওনাকে দেখার পর অনেক প্রশ্ন তোমাকে বিব্রত করেছে বারে বারে। হয়ত নানাভাবে তুমি নিজের মত করে ওঁর সাথে তোমার কোনো সম্পর্ক আছে কি না তা জানতে চেষ্টাও করেছ। তবে সুবিধা যে কিছু হয়নি সে তো বোঝাই যাচ্ছে।
আজ যদি ওঁর নিজের অসুবিধা না থাকে তবে উনি নিজেই সবটা তোমাকে বলবেন। ”
–” হ্যাঁ, আমি অনেক কিছু বলতে চাই। অনেক কিছু জানতে চাই। আমার জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখানে এত বছর ধরে রয়েছে আর আমি তার কোনও খবরই জানতে পারিনি, সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েগেছি, কেন? আমি যাকে দিনের পর দিন খুঁজেছি সে নিজেকে এতবছর ধরে আড়ালে লুকিয়ে রেখেছে কেন ?”
—সুমিতার চোখের কোন চিকচিক করে ওঠে। গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বেরোয় না।
মাদার এগিয়ে এসে মিঠির হাত ধরে বলেন, – –
“তুমি তো পুরনো দিনের কথা কিছুই জাননা। আমি জানি। বলছি, শোন। তোমার জন্মের আগে থেকেই তোমার মা আমার কাছে ছিলেন। সামাজিকভাবে তোমার বাবা মায়ের মাল্যদান হয়নি। কিন্তু যাকে মনের সবটুকু উজাড় করে দেয়া হয়ে যায় তাকে স্বীকৃতি দিতে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানের তো প্রয়োজন হয়না। বিদেশ যাবার আগে তোমার বাবা তোমার মায়ের সম্পূর্ণ সম্মতিতে পাণিগ্রহন করেন।
আসছি পরের পর্বে