গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী (পর্ব – ১১)

নর্মদার পথে পথে
এরপর কপিলধারায় পৌঁছাই। কিন্তু পথে এক জায়গায় হনুমানের ভিড় এড়াতে গিয়ে পা মচকে যায়। ফলে কপিলধারা দেখা হলনা। আমরা ফিরে এলাম।
বাঁদরের বাঁদরামি যে শুধু শোনমুড়াতেই সীমাবদ্ধ এমনটা নয়।
ওখানে যাত্রীদের হাতে যা থাকে সেসবই বাঁদরে কেড়ে নেয়। কিন্তু এখানে তো বাঁদরগুলো সিধেলচোর।
বলছি সবটা- কপিলধারা হল কপিলমুনির সাধনাস্থলি। এই আশ্রমে
বর্তমানকালেও মহর্ষির অখন্ড ধূনি জ্বলে। এখানে একটা পাথরের ওপর মহর্ষির পায়ের ছাপ রয়েছে । সাংখ্য দর্শনের রচয়িতা কপিলমুনির অপর একটি আশ্রম আমাদের পশ্চিমবঙ্গেও রয়েছে। সেখানে গঙ্গাসাগরের মেলা হয় প্রতি বছর পৌষ সংক্রান্তিতে।
যেটা বলছিলাম – আমার তো পা মচকে গেছে তাই পা’টা টেনে টেনে হাঁটছি। যেহেতু অনেকটা হাঁটতে হবে তাই সবাই তাড়াতাড়ি করে এত অনেকটা এগিয়ে গেছে। কিন্তু আমার পায়ের ব্যাথাটা এতো বেড়ে গেছে যে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিলাম। ফেরার সময় আর পা’টা তোলার মতো অবস্থা নেই।কি করবো বুঝতে পারছি না। রাস্তার পাশে এক অন্ধ ভিখারী হর নর্মদা রেবা রেবা গান গেয়ে চলেছে। আশেপাশে কয়েকটা তাঁবু টানানো রয়েছে। কোনোটাতে খাবার বিক্রি হচ্ছে আবার কোনোটাতে স্থানীয় আয়ুর্বেদিক ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে। আমি সেরকম একটা দোকানের সামনে এসে দাঁড়িয়েছি। দোকানের ভদ্রমহিলা আমাকে একটা চেয়ার দিলেন। আমি তাড়াতাড়ি চেয়ারে বসে পড়লাম। ততক্ষণে পা ফুলে ঢোল। ভদ্রমহিলা আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, মালিশ কর দুঁ ক্যা? আমি একটু ইতস্তত বোধ করছি দেখে বললেন, ‘ইয়ে নয়াওয়ালা শিশিকা তেল সে মালিশ কর দেতেঁ হ্যায়।ইসকা দাম বিশ রূপিয়া পড়েগা।’ আমি রাজি হয়ে গেলাম। মালিশ করার সময়ে আমাদের গাড়ির ড্রাইভারকে দেখলাম ঘুরে বেড়াচ্ছে। জিজ্ঞেস করলাম, ভাইয়া, গাড়ি কাঁহা ছোড়া?’ আঙ্গুলের ইশারায় দেখিয়ে দিয়ে সে ও চলে গেল ধারার জল মাথায় নিতে। আমি গাড়িতে ফিরে যাব বলে উঠে পড়লাম। ভদ্রমহিলা আমাকে বললেন,আপ জাহাঁ ঠহরে হো বহা গেঁন্দে কা পৌধা বহুত হ্যায়। ধর্মশালা পৌঁছকে থোরি পাত্তা হাথমেঁ লেনা ঔর দো বুঁদ তেল ডালকে মসলকর যাঁহা লাগাকে বাঁন্ধকে রাখনা।সুবহ তক বিলকুল ঠিক হো জাওগে।’ আমি কোনমতে ধীরে ধীরে গাড়ির দিকে এগিয়ে গেলাম।