সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে রঞ্জন চক্রবর্ত্তী (পর্ব – ১)

উপন্যাসের বহুমাত্রিক রূপ


সাহিত্যের সবথেকে আধুনিক ও জনপ্রিয় শাখা উপন্যাসের প্রথম আবির্ভাব হয়অষ্টাদশ শতাব্দীর ইংলণ্ডে। উপন্যাসের জনপ্রিয়তার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে G. K. Chesterton বলেছিলেন–“People wonder why the novel is the most popular form of literature; people wonder why it is read more than books of science or metaphysics. The reason is very simple; it is merely that the novel is more true than they are.” এই ‘Novel’ শব্দটি এসেছে ‘Novella’ থেকে। মধ্যযুগে ইতালীতে ‘নভেলা’ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। তবে পাশ্চাত্যে অনেক আগেই আখ্যায়িকাধর্মী রচনার সূত্রপাত হয় । খ্রীষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের গ্রীক ও ল্যাটিন সাহিত্যে এই ধরণের রচনার খোঁজ মেলে, উদাহরণ হিসেবে এরিস্টাইডিসের গ্রীক ভাষায় লেখা Milseiaca বা পেট্রোনিয়াসের ল্যাটিন ভাষায় লেখা Satyricon ইত্যাদি রচনার নাম করা যায়। মধ্যযুগে রাজা আর্থার, শার্লামেন প্রভৃতি প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক চরিত্রের আখ্যানকে অবলম্বন করে মূলত উপভোগ্য গল্প সৃষ্টির খাতিরে কিছু গদ্য আখ্যায়িকা রচিত হয়েছিল। চতুর্দশ শতকে ইতালীয় লেখক বোকাচিও প্রথম উপন্যাসধর্মী রচনা সৃষ্টি করেছিলেন, যদিও তার মধ্যে আধুনিক উপন্যাসের লক্ষণ খুঁজে পাওয়া যায় না। প্রকৃতপক্ষে উপন্যাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর Daniel Defoe, Samuel Richardson, Tobias Smollett, Henry Fielding প্রভৃতি ইংরেজি ভাষার লেখকরা। তাঁদের হাত ধরেই উপন্যাসের ধারা প্রবর্তিত হয়।
উপন্যাসের আদিরূপ হিসেবে স্বচ্ছন্দে Picaresque Novel-কে চিহ্নিত করা যায়। এই শ্রেণীর উপন্যাসের প্রথম নিদর্শন সম্ভবত ১৫৫৪ খ্রীষ্টাব্দে প্রকাশিত ‘The Life of Lazarillo de Tormes and of His Fortunes and Adversities’ নামক একটি নভেলা, লিখেছিলেন স্পেনের জনৈক লেখক যাঁর নাম জানা যায় না। ফরাসী লেখক Alain-Rene Lesage-এর লেখা‘Gil Blas’ (১৭১৫. ১৭২৪, ১৭৩৫) একটি সুপ্রসিদ্ধ পিকারেস্ক উপন্যাস। অষ্টাদশ শতাব্দীর ইংরেজ ঔপন্যাসিক Henry Fielding- এর ‘The History of the Adventures of Joseph Andrews’এবং ‘The History of Tom Jones’পিকারেস্ক উপন্যাসের ধারাকে অনুসরণ করেছে। একইভাবে Smollet-এর ‘The Expedition of Humphrey Clinks’ পিকারেস্ক উপন্যাসের ধারার অনুসারী।আরো পরের খ্যাতনামা ইংরেজ ঔপন্যাসিক Charles Dickens-এর বিখ্যাত রচনা ‘Pickwick Papers’ (১৮৩৬-৩৭) পিকারেস্ক উপন্যাসের ঐতিহ্যকে অনুসরণ করেই রচিত। বাংলায় পিকারেস্ক উপন্যাসের নিদর্শন খুব একটা নেই, তবে জগদীশ গুপ্তের ‘অসাধু সিদ্ধার্থ’ এই শ্রেণীর রচনার উদাহরণ রূপে বিবেচিত হতে পারে।

ক্রমশ

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।