একজন শিক্ষকের শিক্ষাদানের মূল্য অনুধাবন করা সম্ভব নয়
প্রত্যেকটা প্রাণীই তার পরবর্তী প্রজন্মকে শিক্ষা দেয় । মাতৃগর্ভ থেকে বেরিয়ে এসে এই পৃথিবীতে নতুন পরিবেশে কিভাবে এগিয়ে যেতে হবে, তার শিক্ষা দেয় প্রথম মা । তাই মা-ই হলো প্রথম শিক্ষা গুরু প্রত্যেকটি প্রাণীর । সঠিক শিক্ষা না পেলে জীবনে এগিয়ে যাওয়া খুবই মুশকিল হয়ে পড়ে । জীবন পথে চলতে গিয়ে অনেক বাধা বিপত্তি আসে । সেগুলো কিভাবে প্রতিহত করে আরো এগিয়ে যেতে হবে তারই শিক্ষা চলতে থাকে ।
একটা শিশু জন্ম নেওয়ার পর মা ও পরিবারের অন্যান্যদের থেকে শিক্ষা নিয়ে এই পৃথিবীতে ঠিকঠাক চলতে শুরু করে । সে নিজের মতো করে বাঁচতে শিখে যায় । এরপর জীবনে আরও উন্নতি ও অগ্রগতির করার জন্য পুঁথিগত শিক্ষার প্রয়োজন হয় । বহু যুগ আগে গুরুগৃহে গিয়ে সেখানে থেকে হাতে কলমে শিক্ষা গ্রহণ করত ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা একটা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত । এরপর তাঁরা পরিবারে ফিরে এসে অর্থোপার্জন করার পর সংসার জীবনে প্রবেশ করত ।
সময় অনেক পাল্টে গেছে এবং সময়ের সাথে সাথে শিক্ষার পদ্ধতিও পাল্টে গেছে আজকের যুগে । এখন আর শিক্ষার জন্য গুরুগৃহে গিয়ে থাকতে হয় না । এখন ঘরে থেকে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করতে হয় । কোথাও কোথাও আবার বোর্ডিং সিস্টেম আছে যেখানে থেকেও পড়াশোনা করা যায় । বাবা ও মা দুজনেই কর্মজীবী হলে তখনই এই বোর্ডিংয়ে রেখে শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হয় সন্তানদের জন্য । যাইহোক ছোট থেকে একটা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত প্রত্যেকটি মানুষেরই শিক্ষার প্রয়োজন হয় ।
শিক্ষা দানের জন্য শিক্ষকের অবদান অনস্বীকার্য আমাদের সমাজে । একজন অন্ধ যেমন যষ্টি ছাড়া চলতে পারে না । ঠিক শিক্ষাক্ষেত্রেও একজন মানুষ শিক্ষক ছাড়া শিক্ষার পথে এগিয়ে যেতে পারে না । প্রত্যেকটা বিষয় একজন শিক্ষক সহজ-সরল ভাবে তার ছাত্র-ছাত্রীকে বুঝিয়ে দেন । কোন কিছু ঠিকমত বুঝে যে শিক্ষা গ্রহণ করা হয়, সেটাই হলো আসল শিক্ষা । কোন বিষয় ঠিকমত না বুঝে শুধু পাস করলে, সে শিক্ষার কোনো মানে হয় না ।
শিক্ষক হলো সুস্থ স্বাভাবিক ও ভালো মানুষ গড়ার কারিগর । একজন শিক্ষক এর উপরেই নির্ভর করে সমাজ ও দেশের উন্নতি ও অগ্রগতি । দেশের মানুষ যদি সুশিক্ষিত হয়, তবে সে দেশের উন্নতি অবশ্যম্ভাবী । একজন শিক্ষক মহাশয় তার শিক্ষাদানের জন্য অর্থ পান কিংবা নেন, সেটা তার পরিবার চালানোর জন্য । কিন্তু শিক্ষকের শিক্ষাদানের মূল্য অনুধাবন করা সম্ভব নয় । তিনি তো সমাজের জন্য একটা মহান কাজ করেন । শিক্ষক মহাশয় হলো একজন নমস্য ব্যক্তি ।
তবে এটাও আজকের সমাজে দেখা যাচ্ছে যে একজন শিক্ষক অশিক্ষকের মতো কাজ করছে । শিক্ষার নাম করে তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের সময় সঙ্গে অনেক সময় খারাপ কাজ করছেন । যদিও একজন আদর্শ শিক্ষক কোন সময়ই ছাত্র-ছাত্রীর সঙ্গে খারাপ কাজ করতে পারেন না । তবে কিছু খারাপ শিক্ষকের জন্য পুরো শিক্ষক সমাজকে বদনাম করা উচিত নয় । কেননা শিক্ষকই আলোর পথের দিশা দেখান ।
শিক্ষকের ঋণ শোধ করাও সম্ভব নয় । তিনি আমাদের অজ্ঞতা ও অন্ধকারের জগত থেকে শিক্ষার আলোর জগতে নিয়ে আসেন । কোনটা ভালো কোনটা মন্দ, কোনটা করা উচিত কোনটা করা উচিত নয় । সব তিনি আমাদের শিখিয়ে দেন কঠিন বাস্তবে ভালো করে চলার জন্য । তার শিক্ষাদানের জন্যই সমাজে সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হয় শিক্ষিত মানুষ এর সহযোগিতায় । শিক্ষাহীন জীবন অরাজকতার সৃষ্টি করে । তাই সুন্দর সমাজ গড়ার জন্য শিক্ষকের অবদান অতুলনীয় ।